টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গেড়ামারা বাজার–দীঘুলিয়া সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের পর কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশে সাইটে মজুদ রাখা নিম্নমানের খোয়া অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়ে নির্ধারিত মানের উপকরণ ব্যবহার করে পুনরায় কাজ সম্পন্নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের গেড়ামারা বাজার–দীঘুলিয়া সড়কের সাব-বেজ নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কৃষ্ণা স্টুডিও এর প্রতিনিধি বেলাল রাতের অন্ধকারে নিম্নমানের খোয়া সাইটে এনে মজুদ করেন। পরে ওই খোয়া বালুর সঙ্গে মিশিয়ে কাজে ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পরদিন উপজেলা প্রকৌশলীসহ এলজিইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে নিম্নমানের খোয়া মজুদের সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই খোয়া ও সংশ্লিষ্ট মালামাল সাইট থেকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন বলেন,উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে শোকজ করা হয়েছে। নিম্নমানের মালামাল অপসারণ করে এলজিইডির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নির্ধারিত মানের খোয়া দিয়ে সাব-বেজের মিক্সসহ বাকি কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর স্বাক্ষরিত দাপ্তরিক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মানসম্মত খোয়া সাইটে মজুদ ও অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত পরবর্তী নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। নির্দেশনা অমান্য করলে বিল পরিশোধসহ পরবর্তী সব প্রশাসনিক জটিলতার দায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকেই বহন করতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, সময়মতো প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তারা উন্নয়নকাজে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করা হয়।
পড়ুন : কালিয়াকৈরে তীব্র তাপদাহ ও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ঘাটতি, বাড়ছে লোডশেডিং


