ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক ১৭ দিনের সংঘাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে উল্লেখযোগ্য আঘাত হেনেছে।
সোমবার ইরানের মেহের নিউজে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এই সংঘাতকে তৃতীয় যুদ্ধ বা মহররমের ১৭ দিনের যুদ্ধ বলা উচিত। এই যুদ্ধে আমরা যুক্তরাষ্ট্রকেও কঠোর আঘাত করেছি।’
রেজায়ির ভাষ্য, বিশ্বের কাছে এই যুদ্ধ অস্বাভাবিক মনে হলেও ইরানের জন্য এটি ছিল পূর্বানুমিত। তিনি দাবি করেন, এর আগেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে সরে দাঁড়িয়ে হামলা চালাবেন।
তিনি আরও বলেন, সংঘাত শুরুর চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতা লঙ্ঘন করে। ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছিলেন, ইরানের জনগণ চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকবে। তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও পরে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি বলে দাবি করেন রেজায়ি।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক এই কমান্ডার আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে নতুন একটি করিডোর তৈরির চেষ্টা করেছিল এবং এ বিষয়ে ইরানের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল। এর জবাবে ইরান দুই থেকে তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়ে তাদের সমঝোতায় ফিরে আসার বার্তা দেয়।
রেজায়ির দাবি, পরে যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতা ভঙ্গ করে দক্ষিণ ইরানে হামলা চালায়, যদিও চুক্তিতে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পাল্টা হামলায় ইরাকি কুর্দিস্তান ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই দুটি ঘাঁটি খালি করতে বাধ্য হতে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
পড়ুন: আজ সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক
আর/


