পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার দাবি করলেও তেহরান তা সরাসরি নাকচ করেছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছাতে এটিই ‘শেষ সুযোগ’।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ বিভিন্ন পক্ষের অনুরোধের ভিত্তিতে এ আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে।
তবে একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না এবং এ ধরনের কোনো বৈঠকের সময়সূচিও নির্ধারিত নেই।
তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোনো বিদেশি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানানো বা বিদেশে কোনো আলোচক পাঠানোর পরিকল্পনা নেই। শুধু পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ধর্মীয় সফরে ইরাকে অবস্থান করছেন। বর্তমানে ওমানের সঙ্গে কেবল হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার ছিল। এর আগের দিন এ সংখ্যা ছিল সাতটি।
আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়।
ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডাও জোন্স সূচক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজার ও তেলের দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের সরকারি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যপথ, নৌপথ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে চাইছে।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক মাইকেল নাইটস বলেন, ‘ইরানের বড় সুবিধা হলো, তারা আঞ্চলিক দেশগুলো এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সক্ষমতা রাখে।’
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে ‘অবিশ্বাস্য রকমের দ্বিমুখী’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানই বৈঠকের অনুরোধ করেছে এবং শিগগিরই আরও আলোচনা হবে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জুনে হওয়া সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তেহরান প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেই দুই দেশের প্রধান মতবিরোধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সমঝোতা অনুযায়ী ইরানকে প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখতে হবে। অন্যদিকে, ইরানের বক্তব্য, ওই নথিতে হরমুজে জাহাজ চলাচলের ওপর তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখা হয়েছে।
পড়ুন: কাল থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে: কেজিডিসিএল
আর/


