কয়েকজন মাদক কারবারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ন্যাশনাল ট্রাভেলস এবং দেশ ট্রাভেলস-এর দুটি যাত্রীবাহী বাসযোগে বিপুল পরিমাণ কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল ঢাকায় নিয়ে আসছে বলে গোপন সূত্রে খবর পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়। এরপরই শুরু হয় অভিযান।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি বিশেষ টিম রাজধানীর বনানী থানাধীন মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় কস্তুরী রেস্টুরেন্টের সামনে অবস্থান গ্রহণ করে।
নির্ধারিত সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ন্যাশনাল ট্রাভেলস (রেজি. নং: ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯৯১০) ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বাসটি থামিয়ে বি-৩, সি-৩ ও সি-৪ নম্বর আসনে বসা তিনজন সন্দেহভাজন যাত্রীকে আটক করা হয়। তাদের বহনকৃত ট্রাভেলস ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে দেশ ট্রাভেলস (রেজি. নং: ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৩৭৯৯) একই স্থানে পৌঁছালে বাসটি থামিয়ে জি-১ নম্বর আসনে বসা একজন যাত্রীকে আটক করা হয়। তার দেহে বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত একটি জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় তল্লাশি চালিয়ে জ্যাকেটের গোপন চেম্বার থেকে বাণিজ্যিক নাম ESKUF Syrup ও FAIRDYL Syrup-এর কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, মোঃ নাসিরুল ইসলাম (৪৮), মোঃ ফাহিম আজাদ (২৭), মোছাঃ জুলেখা খাতুন (৩২), ও মোছাঃ শারমিন খাতুন (৩২), থানা ও জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
একটি ট্রাভেলস ব্যাগ হতে ১০৯ (একশত নয়) বোতল ভারতীয় কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল। অপর একটি ট্রাভেলস ব্যাগ হতে ১০০ (একশত) বোতল ভারতীয় কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল। বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত একটি জ্যাকেটের গোপন চেম্বার হতে ৫০ (পঞ্চাশ) বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল। বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত অপর একটি জ্যাকেটের গোপন চেম্বার হতে ৫০ (পঞ্চাশ) বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল।
সর্বমোট উদ্ধার: ৩০৯ (তিনশত নয়) বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল।
প্রতিটি বোতলে ১০০ (একশত) মিলিলিটার করে মোট উদ্ধারকৃত তরল মাদকের পরিমাণ ৩০.৯ (ত্রিশ দশমিক নয়) লিটার।
এছাড়াও মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত ৫ (পাঁচ)টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সংঘবদ্ধ এই সিন্ডিকেটটি গত ৩–৪ বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়মিত ফেন্সিডিল সরবরাহ করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা মাদক পরিবহনের সময় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখত, একাধিক রুট ও একাধিক যাত্রীবাহী বাস ব্যবহার করত এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও লেনদেনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনক্রিপ্টেড অ্যাপস ব্যবহার করত।
গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারিরা মাদক পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত জ্যাকেট ব্যবহার করত। জ্যাকেটগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে শরীরের সঙ্গে সহজে বহন করা যায় এবং বাইরের দৃষ্টিতে তা সাধারণ পোশাক বলে মনে হয়। প্রতিটি জ্যাকেটের ভেতরে একাধিক গোপন চেম্বার ছিল, যেখানে ৫০ থেকে ৬০ বোতল পর্যন্ত ফেন্সিডিল বহন করা সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়ানোর উদ্দেশ্যেই তারা এই অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছিল।
ডিএনসি আরো জানায়, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের যোগসাজশে সংঘবদ্ধভাবে ESKUF Syrup ও FAIRDYL Syrup নামে পরিচিত কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিলের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এসব নিষিদ্ধ মাদক সংগ্রহ করে বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাসযোগে ঢাকায় এনে স্থানীয় মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করত।
তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। পারস্পরিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত মাদক পাচার নেটওয়ার্ক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বনানী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য, অর্থদাতা, সরবরাহকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ডিএনসির গোয়েন্দা তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন:মেহেরপুরে নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস
ইমি


