শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এতে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী উল্লেখিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেকোনো ধরনের শব্দদূষণের শাস্তি বাড়ছে। ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল এক মাসের জেল বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড। খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী এ শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল বা দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
বিধিমালায় এলাকা ভেদে শব্দের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। নীরব এলাকায় সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল এবং মিশ্র এলাকায় সর্বোচ্চ ৭৫ ডেসিবেল শব্দমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—
-কোনো উচ্চশব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র বা কর্মকাণ্ডে বিধিমালায় নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রম করা যাবে না।
-কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া পারিবারিক অনুষ্ঠান বা জনসমাবেশে উচ্চ শব্দের যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। অনুমতি পেলেও শব্দমাত্রা ৯০ ডেসিবেলের বেশি এবং সময়সীমা ৫ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না।
-নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রমকারী কোনো ধরনের হর্ন উৎপাদন, আমদানি, মজুদ, বিক্রয়, বিতরণ, বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ।
-নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া পটকা, আতশবাজিসহ শব্দদূষণ সৃষ্টি করে এমন কার্যক্রমও নিষিদ্ধ।
-আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো যাবে না।
-প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে বেলুন ফোটানো এবং উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন শব্দযন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ।
-আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা যাবে না।
-ট্রাফিক সার্জেন্ট বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে শব্দদূষণের ঘটনা ঘটলে তারা ঘটনাস্থলেই শাস্তি দিতে পারবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে বিধিমালার নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।
পড়ুন: গণভোটের রায় বাস্তবায়নে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা ১১ দলের
আর/


