বিজ্ঞাপন

ফতুল্লায় জমি দখল, অবৈধ ভবন নির্মাণ ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ; নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রায় ৩ শতাংশ মূল্যবান জমি জবরদখল, নকশাবহির্ভূত বহুতল ভবন নির্মাণ এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ভূমি মালিক এইচ. এ. এম. মাহমুদুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করেন, ফতুল্লা থানার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় তিনি ১৬ শতাংশ জমির বৈধ মালিক। ২০২২ সালে পার্শ্ববর্তী ১৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন ‘ওশান এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ওশান টেক্স’-এর সিইও মো. তৈয়ব মিয়া। তবে যৌথ সার্ভেয়ারের মাপজোখে দেখা যায়, তিনি অতিরিক্ত প্রায় আধা শতাংশ জমি দখলে রেখেছেন এবং রাস্তার জন্য আরও প্রায় ৩ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করছেন।

তিনি জানান, বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জমি বিনিময়, বাজারমূল্যে বিক্রি কিংবা পুরো জমি বিক্রির মতো একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেগুলো প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, তৈয়ব মিয়া তাঁর প্রতিষ্ঠানকে ‘ফুলি এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড জাপান-বেজড ফ্যাক্টরি’ হিসেবে পরিচয় দিলেও বাস্তবে তিনি বিকেএমইএ এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের নিষ্ক্রিয় ও মেয়াদোত্তীর্ণ সদস্য। ২০২৪ সালের পর এসব সদস্যপদ নবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া, জাপানি প্রতিষ্ঠান ‘কে-টু লজিস্টিকস’-এর লিখিত বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, রাস্তা বা অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে তাদের কোনো অর্ডার বাতিল হয়নি এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কারখানাটি বন্ধ রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করে সীমানা ঘেঁষে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। জমি দখলের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলাসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয় বলেও দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের তদন্তে ডাকাতির অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে।

এছাড়া, ২০২৬ সালের ২ জুনের একটি কথিত হামলার মামলার প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান দাবি করেন, কল রেকর্ড ও ডিজিটাল তথ্য অনুযায়ী ঘটনার সময় বাদী ও বিবাদী উভয়ই ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জমি উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ, মিথ্যা মামলার হয়রানি বন্ধ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

উল্লেখ্য, উপরোক্ত অভিযোগগুলো সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পক্ষের উপস্থাপিত বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

পড়ুন:খুলনায় পিস্তল ও গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন