সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল করার প্রলোভন দেখিয়ে নেত্রকোনা সদর থানা এলাকায় এক কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. রিপন মিয়া (৩৩)। তিনি পেশায় একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এরআগে, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে (শুক্রবার প্রথম প্রহর) ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার মহিষারন (অচিন্তপুর) এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী এবং গ্রেপ্তারকৃত রিপন মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা ও প্রতিবেশী। রিপন মিয়া পেশায় একজন ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’। এই সুবাদে তিনি বাদীর অগোচরে ওই কিশোরীকে নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করা এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। এর ফাঁদে ফেলে তিনি বিভিন্ন সময়ে কিশোরীকে কুপ্রস্তাবও দিয়ে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জরুরি কথা আছে বলে ওই কিশোরীকে মগড়া নদীর উত্তর পাড়ে ডেকে নেন রিপন মিয়া। সেখানে ভুক্তভোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে গত ৫ আগস্ট নেত্রকোনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রিপন মিয়া আত্মগোপনে ছিলেন। এদিকে ঘটনার পরপরই আসামিকে ধরতে র্যাব-১৪ এর গোয়েন্দা দল ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং নজরদারি বৃদ্ধি করে। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪, সদর কোম্পানি, ময়মনসিংহের একটি আভিযানিক দল গৌরীপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মূল পলাতক অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে র্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ অভিযানটি পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পড়ুন : ‘মব’ তৈরির সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে দুর্বল করে: মির্জা ফখরুল
সা/


