নিরাপদ সড়কের দাবিতে তিন দশকের বেশি সময় ধরে আন্দোলনে সোচ্চার থাকা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, তার অনুপস্থিতিতেও যেন সবাই এই দাবি পূরণে সোচ্চার থাকেন।
শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর মহাসমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘একত্রিশ বছর আগে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোক ও বেদনাকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শক্তিতে পরিণত করেছিলাম। দীর্ঘ এই পথচলায় আন্দোলনটি এখন আর কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো দেশের মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।’
১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজপথে নামেন এই বরেণ্য অভিনেতা। তার সেই আন্দোলনের পথ ধরেই পরবর্তীতে দিনটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আল্লাহ যাতে আমাকে সুস্থ করে আবার সবার সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার শক্তি দান করেন। আমি দেশের মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি।’
সরকার, প্রশাসন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ দেশের প্রতিটি সচেতন মানুষকে এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়; জীবনের সুরক্ষায় সবাই সহযোদ্ধা।’ উপস্থিত সবার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বপ্ন আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম। আমি না থাকলেও আপনারা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন।’
সবশেষে নায়ক বলেন, আমিও দেশের প্রতিটি মানুষের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। আমি সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবহণ মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে এ আন্দোলনের অংশ হতে বলবো। আমরা একে অপরের প্রতিপক্ষ নই। আমরা সবাই মানুষের জীবনরক্ষার সহযোদ্ধা। আমার স্বপ্ন আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম। আমি না থাকলেও আপনারা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন। আল্লাহ হাফেজ।
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে সেখানকার হাসপাতালে চলছে তার চিকিৎসা। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরাতে পারেনি। পরে চিকিৎসক জানান, তার ব্রেন ক্যানসার।
তিন ধাপে সব মিলিয়ে মোট শ খানেক কেমোথেরাপি নিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তবে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে থাকতে থাকতে তিনি অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। অবস্থার উন্নতিও খুব একটা নেই। তৃতীয় ধাপের থেরাপি শেষ হয়েছে গত ৩০ জুলাই। এরপর নতুন করে চিকিৎসা শুরু হবে। তার আগে দেশে কিছুদিন কাটাতে চাইছেন তিনি। এ উদ্দেশ্যেই দেশে আগমন এই প্রখ্যাত তারকার।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

