গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা সদর বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানী পরিবহন সার্ভিসের একটি বাসে এ আগুন লাগে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বাসটি পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ডে পার্কিং করে রাখা রাজধানী পরিবহন-এর (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৫১২৩) বাসটিতে হঠাৎ ইঞ্জিনের দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। চালক ও হেলপার দ্রুত বাস থেকে নেমে যাওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই বাসটির ইঞ্জিন, অভ্যন্তরীণ ডেকোরেশন ও অন্যান্য মূল্যবান যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়। আগুনের তাপে পাশের দুটি দোকানের সাইনবোর্ড ও কিছু বৈদ্যুতিক তারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়রা বালতি ও পানির পাইপ দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।
বাসটির মালিক, চাপাইর ইউনিয়নের বাগচাপাইর গ্রামের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, সকালে গ্যারেজ থেকে সার্ভিসিং শেষে বাসটি স্ট্যান্ডে রাখা হয়েছিল। পরে হঠাৎ আগুন লাগার খবর পান। তার দাবি, আগুনে ইঞ্জিন ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পরিবহন শ্রমিক রহিম মিয়া বলেন, বাসটি পার্কিং অবস্থায় ছিল। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না।
গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান জসীম উদ্দিন বলেন, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক নেতারা আলোচনা করছেন এবং প্রয়োজন হলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হবে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিনের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পড়ুন : বল আনতে গিয়ে টিনের চালে উঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু


