বিজ্ঞাপন

ইন্টারপোলের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জামায়াতের

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দলের পক্ষে এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালিত হলেও বর্তমান সরকার খুনি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে পালিয়ে থেকে দেশ ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাচ্ছে খুনি শেখ হাসিনা। পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনতে বর্তমান সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার যদি কূটনৈতিক শৈথিল্য প্রদর্শন করে, তাহলে জনগণের কাঠগড়ায় সরকারকে কঠোর জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের যে ছায়া ফেলতে চায়, তা সফল হবে না। আমরা বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণকে সদা সজাগ থেকে ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করেছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মানজনক কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনার মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা এবং সেই ষড়যন্ত্র বন্ধে বাংলাদেশের কূটনৈতিক আহ্বানকে ভারত সরকার আমলে না নিয়ে তাকে আশ্রয় দেয়া অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। আমরা ভারত সরকারের এমন কূটনৈতিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার ভারত সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু সেই আহ্বান উপেক্ষা করে পলাতক শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সরকার মূলত বাংলাদেশের পরিবর্তে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দি বিনিময় চুক্তিও উপেক্ষা করা হচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করি, ভারত সরকার তার অবস্থান সংশোধন করবে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : শেখ হাসিনার বক্তব্য ‘সমর্থন করে না’ ভারত

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন