বিজ্ঞাপন

শরীয়তপুরে তরুণীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, মামলা করেই পুরো পরিবার এলাকাছাড়া

শরীয়তপুরে সখিপুরে মনির মোল্লা নামে এক মুদি দোকানদারের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণীকে চুরির অপবাদ দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। ওই তরুণীকে গাছের সাথে বেধে, চুল কেটে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। এছাড়া তার দুই ভাই-বোনকে কয়েক ঘণ্টা একটি ঘরে আটকে রেখেছে মনির মোল্লার স্বজনরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা করে প্রভাবশালীদের হুমকিতে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন ওই তরুণীর পরিবার। ঘটনার সাথে জড়িত ২জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সখিপুর থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সখিপুর থানাধীন ছৈয়াল কান্দি এলাকার আবুল মোল্লার ছেলে মুদি দোকানদার মনির মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে পাশের বাড়ির ফারিয়া আক্তার (১৮) কে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন এবং মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিতেন। ঘটনার দিন ৪ আগষ্ট মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় ভুক্তভোগী তরুণী তার বোন মারিয়া আক্তার (১৩) ও ভাই ফাহিম (৭) কে নিয়ে মনির মোল্লার মুদি দোকানে কেনাকাটা করতে আসেন। এসময় অভিযুক্ত মনির মোল্লা ওই তরুণীকে নানাভাবে অশালীন কথাবার্তা বলেন এবং কুপ্রস্তাব দেন। এতে প্রতিবাদ জানালে মনির মোল্লা ওই তরুণীকে পাশের ফৌজিয়া সরদারের বাড়িতে নিয়ে একটি গাছের সাথে হাত-পা বাধেন। এসময় তাকে চুল কেটে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে, একটি চোখ নষ্ট করে দিয়ে পিটিয়ে উল্লাস করতে থাকেন দুবৃর্ত্তরা। এছাড়া ওই তরুণীর ভাই-বোনদেরকে দোকানের পাশে একটি ঘরে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দুপুর ১২ টার দিকে সখিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

ভুক্তভোগী তরুণী ফারিয়া আক্তার বলেন, প্রায় সময় দোকানদার মনির মোল্লা তাকে কুপ্রস্তাব দিতো। ঘটনার দিন তাকে সন্ধ্যার পর যেতে বলে। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় তার হাতে জোর করে একটি আরসি বোতল ধরিয়ে দিয়ে চোর বানায়। এরপর তাকে গাছে বেধে মাথার চুল কেটে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে, লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ভুক্তভোগী ফারিয়া আক্তারের মা ফাতেমা বেগম বলেন, আমার মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছিল, এখন এ ঘটনার পর মেয়েকে বিয়ে দেব কিভাবে?

ভুক্তভোগীর পিতা ফারুক বেপারী বলেন, আমার মেয়ে নির্যাতন করেছে। মামলা করে এখন আমরা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে পালিয়ে ওই এলাকা ছেড়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্টু বিচার চাই।

সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোফাজ্জাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আমরা জড়িত সন্দেহে আফসানা ও আমীর হোসেন নামে দু’জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বংশাই নদীতে নিখোঁজের সাড়ে ৩২ ঘণ্টা পর বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন