ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন এবং কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতিসহ নয় দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় লিখিতভাবে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মুহাম্মাদ সাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত দাবিপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দাবিপত্রে মহান আল্লাহ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
কওমি সনদের স্বীকৃতির দাবি
হেফাজতের দাবির মধ্যে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করার বিষয়টি অন্যতম। সংগঠনটি দাওরায়ে হাদিসের সনদধারীদের দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
পাশাপাশি সরকারি চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি মাদ্রাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিও রয়েছে হেফাজতের দাবিপত্রে।
মামলা প্রত্যাহার ও বিচার দাবি
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার করে দেশের আলেমদের রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশীদার করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, হুকুমের আসামি ও খুনিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছে হেফাজত।
কাদিয়ানী ও হিজবুত তাওহিদ প্রসঙ্গ
হেফাজতের নয় দফা দাবির মধ্যে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করার দাবিও রয়েছে।
পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত ‘অপতৎপরতা’ বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সাদপন্থিদের ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার দাবি
তাবলিগ জামাত ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা নিয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে হেফাজতে ইসলাম।
দাবিপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। এ অবস্থায় ভারতের মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিদের ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে।
বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
এর আগে রোববার দুপুর ৩টা ২০ মিনিটের দিকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতের শুরুতে হেফাজত আমিরকে বুকে জড়িয়ে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দুজনের মধ্যে কুশল বিনিময় হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।
এরপর বিকেল ৪টার দিকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা শুরু হয়। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৭০ জন বিশিষ্ট আলেম অংশ নেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, উত্তর চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মতবিনিময় শেষে হেফাজতের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত দাবিপত্র তুলে দেওয়া হয়।
পড়ুন : টাঙ্গাইলে গণধর্ষণ মামলায় তিন জনের যাবজ্জীবন, মায়ের ১৫ বছরের কারদণ্ড


