ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কাঠামোয় হঠাৎ বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই।
এর কিছুক্ষণ আগে রেজাইকে একই পরিষদে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এ পদে পরিবর্তন আনা হলো।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, রোববার (৯ আগস্ট) প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব পদে মোহসেন রেজাইকে নিয়োগ দেন বলে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের যোগাযোগ ও তথ্যবিষয়ক উপপ্রধান সাইয়েদ মেহদি তাবাতাবায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদরের পদত্যাগ এবং নতুন দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক ডিক্রির মাধ্যমে মোহসেন রেজাইকে নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
এর কিছুক্ষণ আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি রেজাইকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চলা ইরান-ইরাক যুদ্ধে রেজাইয়ের অভিজ্ঞতা ও ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়।
১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইআরজিসির নেতৃত্বে ছিলেন রেজাই। তিনি ইরানের এক্সপেডিয়েন্সি ডিসকার্নমেন্ট কাউন্সিলেরও সদস্য। দেশটির সংসদ ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মধ্যে কোনও বিষয়ে মতবিরোধ হলে তা মীমাংসা করে এই পরিষদ। ১২ সদস্যের গার্ডিয়ান কাউন্সিল বিভিন্ন সরকারি পদে প্রার্থী এবং আইন যাচাই করে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল রেজাইকে। অন্যদিকে মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদরকে নিজের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মোজতবা খামেনি।
এক্সে দেয়া এক বার্তায় খামেনি বলেন, ‘আপনার মূল্যবান অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে আপনাকে আমার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিলাম।’
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাত চলার সময় দেশটির নিরাপত্তা কাঠামোয় এ পরিবর্তন আনা হলো। ফেব্রুয়ারিতে তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়।
এপ্রিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে জুনে সামরিক সংঘাতের অবসান ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক সই করে।
তবে গত মাসে ওই সমঝোতা কার্যত অকার্যকর হয়ে যায়। এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। পরে সংঘাত নিরসনে আলোচনার খবরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করে হামলা বন্ধ করে দেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

