হবিগঞ্জের বাহুবলে গ্রাম্য রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সেলু মিয়া ও হেলাল উদ্দিন নামের দুইজন হত্যা মামলার পলাতক পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব -৯।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় র্যাব-৯। এরআগে সোমবার রাতে চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বাহুবল উপজেলার হিলালপুর গ্রামের মৃত হিরা মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়া (৪৫), তার ছেলে আবু সুফিয়ান (২৫), একই গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে রুবেল মিয়া (৩০), মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে সামছু মিয়া (৪৬) এবং মৃত হিরা মিয়ার ছেলে কবির মিয়া (৫৫)।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাহুবল উপজেলার আতিদ্যপুর গ্রামের চলাচলের রাস্তা নিয়ে সেলু মিয়ার সাথে সবুজ মিয়া, সামছু মিয়া ও কবির মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য গত ১৫ জুন সন্ধ্যার পর বাহুবল থানায় সালিশ বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আসামিরা।
ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় ডুবাঐ বাজারের পাশে সেলু মিয়াকে একা পেয়ে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার পথরোধ করে। পরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। সেলু মিয়ার চিৎকার শুনে হেলাল উদ্দিন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
পরে স্থানীয় লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত হেলাল উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তারও মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত সেলু মিয়ার স্ত্রী বাদী হয়ে বাহুবল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল সোমবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে চুনারুঘাট থানার উবাহাটা ইউনিয়ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে গত ১৩ জুলাই ও ২ আগস্ট একই মামলার আরও দুই আসামিকে র্যাব–৯ গ্রেফতার করে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন- গ্রেফতারকৃত পাঁচ আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাহুবল মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারেও র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন : বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ ঘাটতিতে দুঃখপ্রকাশ করলেন প্রতিমন্ত্রী
সা/


