একের পর এক অনিয়মের তথ্য প্রকাশ হচ্ছে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের ইচ্ছে স্বাধীন চলাফেরা যেন দীর্ঘ দিনের অভ্যাস। নিজ জেলা ও উপজেলার সরকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই মহাপরিচালকের (ডিজি) নিকট বদলির আবেদন। পক্ষান্তরে হাইকোর্ট রিট করছে আবেদনকারী।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ঝিকরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিনা খাতুন বিরুদ্ধে নিয়মনীতির নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিস। এবিষয়ে তথ্য উদঘাটনে করেছে সাংবাদিক। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুন নাহারের উপস্থিতিতে ওই শিক্ষককে প্রশ্ন করলে তিনি একটির উত্তর না দিয়ে বলেন, তার স্বামী মামুন (কৃষি ব্যাংক ব্যবস্থাপক, চারঘাট শাখা) বিস্তারিত জানেন।
চারঘাট শাখা কৃষি ব্যাংক ব্যবস্থাপক আব্দুল আল মামুনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সহকারী শিক্ষককে উপজেলার বেলগড়িয়া বিদ্যালয়ে বদলির জন্য গত ২০২৩ সাল থেকে চেষ্ঠা করা হচ্ছে। কিন্ত কোন ভাবেই বদলিটা করা যাচ্ছিল না। যার কারনে গত ২০২৬ সালের জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে ডিজি বরাবর আবেদন করা হয়। কিন্ত বদলির আবেদনটি নাখোস করা হয়। যার দরুন কেন বদলি করা যাবে না এই মর্মে গত ৩মার্চ হাইকোর্টে রিট করেন।
এই বদলি নিয়ে বিদ্যুৎসাহীর এক সদস্যদের বিরুদ্ধেও অর্থ নিয়ে সহযোগিতা করার গুঞ্জন রয়েছে। তবে শিরিনা খাতুনের স্বামী মামুন তা অশ^ীকার করে বলেন, এই কাজের জন্য অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে। কিন্ত লোকাল কাউকে অর্থ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, বেলগড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি নিলে পারিবারিক সুবিধা পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চারঘাট উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ওই শিক্ষকের আবেদনের বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে যখন হাইকোর্টের রিট এর বিষয়ে শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে জানা গেছে। উপজেলা শিক্ষ অফিসার ফাতেমা খাতুন (টিও) বলেন, ওই শিক্ষক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ডিজি বরাবর আবেদন করেছে। এই বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিস সিন্ধান্ত দিবেন।
জেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, কোন ভাবেই ওই শিক্ষক ডিজি বরাবর বদলি আবেদন করতে পারেন না। প্রত্যেক কার্যালয়ের একটি নিয়মনীতি রয়েছে। সর্বপরি শিরিনা খাতুন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আবেদন করেছেন। এই আবেদনটি কার্যালয়ের নিয়ম ভঙ্গ করেছে। সময় সাপেক্ষে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
পড়ুন:বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশ বলছে পটকা!
ইমি/


