বিজ্ঞাপন

২৩ বছর পর ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বুধবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাকে আইএসবিরোধী বৈশ্বিক জোটের অভিযান শেষ হওয়ার পথে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব বিদেশি সেনা চলে যাবে। এ সময়সীমা নির্ধারিত ও চূড়ান্ত। ফলে আগামী ১ অক্টোবর ইরাকের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হতে যাচ্ছে। ওই দিন থেকে দেশটিতে আর কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতি থাকবে না।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকমের কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির বৈঠকের ভিত্তিতেই মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরে গিয়েছিলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। ওই সফরের সময় ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। বুধবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক পরস্পরের সার্বভৌমত্ব ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের প্রতি সম্মান জানাবে। পাশাপাশি অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেবে দুই দেশ।

২০০৩ সালে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করতে দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন বাহিনী। ওই বছরের ১৯ মার্চ অভিযান শুরু হয় এবং এর নয় মাসের মাথায় গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম হোসেন। তিন বছর বিচার চলার পর ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

শর্ত অনুযায়ী, সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুর পরই ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনীর চলে যাওয়ার কথা ছিল। তবে তার মৃত্যুর অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটিতে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থান ঘটে। ফলে গোষ্ঠীটিকে নির্মূল করতে ইরাকে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক ও জোটের অংশীদাররা আইএসকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। বর্তমানে ইরাকে থাকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দমনে ইরাকি সেনাবাহিনী যথেষ্ট সক্ষম।

তবে ইরাকে বর্তমানে কতজন মার্কিন সেনা রয়েছে, সে তথ্য জানাননি ওই কর্মকর্তা।

সূত্র: আলজাজিরা

পড়ুন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক আজ

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন