নেত্রকোনার পূর্বধলা থানাধীন নারান্দিয়া এলাকায় সার বোঝাই ট্রাক ও যাত্রীবাহী পিকআপ ভ্যানের মধ্যে ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এক নারীসহ চার জন নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে দুজন নিহত গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচ-ছয় জন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই পিকআপ ভ্যানের যাত্রী ছিলেন এবং তারা নেত্রকোনার মদনপুর ওরসে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল অনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনাগামী আঞ্চলিক মহসড়কে একটি যাত্রীবাহী পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে বিপরীত দিক (নেত্রকোনা) থেকে আসা ময়মনসিংহগামী একটি সার বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে পিকআপটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে হতাহতের পর গুরুতর আহতদেরকে দ্রুত উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নেত্রকোনা আধুনিক জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহতদের মধ্য থেকে আরও দুজন পুরুষের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজন পুরুষ ও একজন নারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনায় কবলিত পিকআপটিতে থাকা যাত্রীরা সবাই ভক্তবৃন্দ। তারা ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী মদনপুর মাজারের ওরসে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যেই নারান্দিয়া নামক স্থানে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
দুর্ঘটনার পরপরই ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে শ্যামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ও শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল। তারা স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন এবং দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটিকে সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করেন।
নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সার বোঝাই ট্রাক ও ওরসগামী পিকআপের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। গুরুতর আহতদেরকে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শ্যামগঞ্জ ফাঁড়ি ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে আমরা কাজ করছি।”


