চলতি বছরে সিরাজগঞ্জে মৌসুমি রোপা আমন ধান চাষ শুরু হয়েছে। জমিতে ধানের চারা লাগাতে কড়া রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠের পর মাঠ আমন চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে সিরাজগঞ্জের কৃষকরা। এই শ্রাবণ মাসে মাঝে মাঝে অনেক এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে বীজতলা কিছুটা নষ্ট হয়েছে। এই কারণে চারা সংকট ও মূল্য বৃদ্ধিতে কৃষকরা হতাশার পড়েছে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সুত্রে জানা যায়, এছর সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন করে জমিতে রোপণ শুরু হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় শস্যভান্ডারখ্যাত জেলার সিরাজগঞ্জ সদর, তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর উপজেলাসহ সবকটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন জাতের রোপা আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। এসব ধানের চারার মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান-৭১, ৭৫, ৪৯, ১০৩ এবং দেশীয় বিভিন্ন জাতের ধান। এ চাষে খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকেরা এ আবাদে বেশি ঝুঁকেছে।
শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের কৃষকেরা জানান, গত মাসের মাঝামাঝি থেকে ট্রাক্টর দিয়ে জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়। সেই সঙ্গে জমিতে ধানের চারা রোপণও শুরু করা হয়েছে। তবে দফায় দফায় ভারী বর্ষণের মধ্যেও চাষাবাদ এগিয়ে চলছে। ভারী বর্ষণের কারণে অনেক কৃষকের বীজতলা বিনষ্ট হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে চারা সংকট ও এর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাড়াশ উপজেলার বারুহাস গ্রামের কৃষক হাসান আলী বলেন, শস্যভান্ডারখ্যাত তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কামলা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে কৃষি শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। এই কারণে আমরা চারা রোপণ করতে বিপাকে পড়েছি।
অপরদিকে, এ চাষের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বীজ বপন করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাট-বাজারে ১ পণ (৮০ তাড়) ধানের চারা সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জেরিন আহম্মেদ বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যেই রোপা আমন চাষ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ চাষে এ জেলায় প্রায় ১৫ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে এ চাষ শেষ হবে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
পড়ুন : ৭ সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ ৫৬ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর
সা/


