বিজ্ঞাপন

আঞ্চলিক মহাসড়কে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিন্মমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে

রাজশাহীর বানেশ্বর-ইশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চারঘাট ও বাঘা গুরুত্বপূর্ন বাজারের এলাকার সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। সম্প্রতী নির্মাণ কাজ পুনরাই শুরু হয়েছে। তবে কাজের মান ও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন

রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের সূত্রেমতে, তিন দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করার পরেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও কতৃপক্ষের উদাসীনতায় দীর্ঘ পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি ৫৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের দেড় কিলোমিটার অংশের নির্মাণ কাজ। অথচ বাকি সাড়ে ৫২ কিলোমিটার সড়কের কাজ দুই বছর পূর্বেই শেষ হয়েছে।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর থেকে চারঘাট-বাঘা-নাটোরের লালপুর এবং পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত আঞ্চলিক ৬৫ কিঃমিঃ মহাসড়কের নির্মাণের ব্যায় করা হয়েছে ৫শত ৫৪ কোটি টাকা। এই সড়কের ১৮ ফুট চওড়া থেকে ৩৪ ফুট চওড়া উন্নতি করা হয়েছে। মহাসড়কের প্রশস্তকরণ কাজ ২০২০ সালে শুরু হয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর। পরবর্তীতে দুই দফায় আরো এক বছর সময় বাড়িয়ে চারঘাট-বাঘা বাজারের দেড় কিলোমিটার বাদে বাকি অংশের কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। এই প্রকল্পের ৭জন ঠিকাদার ৭টি প্যাকেজে কাজ বাস্তবায়ন করেছে।

গত বছরের ২০ মার্চ সড়ক বিভাগ প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে চারঘাট ও বাঘা উপজেলা সদরের দেড় কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই সড়ক, ড্রেন নির্মাণ ও আলোকায়নের জন্য শামীম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী গত ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছিল। অধিগ্রহণকৃত জায়গা ফাঁকা না থাকায় চুক্তিপত্রের পরদিনই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয় বলে সড়ক বিভাগকে লিখিতভাবে জানায় ঠিকাদার। অধিগ্রহণ করা জমি ফাঁকা না থাকায় জায়গায় কাজ শুরুর কিছুদিন পর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আবারও ১৯ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। একই ঠিকাদার কাজটি বাস্তবায়ন করছে।

রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা উপজেলার স্থানীয়দের অভিযোগ করে বলে, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাথে রাজশাহী শহরের যোগাযোগ স্থাপনকারী এ মহাসড়ক দিয়ে বরিশাল ও খুলনার বিভাগের অধিকাংশ যানবাহন চলাচল করে। সড়কের পাশ^বর্তী অল্প সংখ্যক জমির মালিকের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সরকারের অধিগ্রহণ করা জমির নির্দিষ্ট অংশ বাদ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। যার কারনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও প্রকল্পের মূল নকশা ও নির্ধারিত পরিমাপ অনুযায়ী নির্মাণ কাজ হচ্ছে না। স্থানীয়দের আশঙ্কা করে জানান, এই নির্মাণ কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকির সম্ভবনা রযেছে। স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অনিয়ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

চারঘাট ও বাঘা উপজেলা সদর সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চারঘাট মেডিকেল মোড় এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করার পরও সড়ক ও ড্রেনের নকশা পরিবর্তন করে কাজ করা হচ্ছে। তাপসী রানী, গৌতম কুমার, শাহীন হোসেনসহ সড়ক সংলগ্ন একাধিক জমির মালিক সরকারের কাছে জমি বিক্রি করলেও জমির দখল ছাড়েনি৷ সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও ঠিকাদারের লোকজন অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব ব্যক্তিদের জমির কিছু অংশ অধিগ্রহণ না করে কাজ করছে।

চারঘাট বাজার এলাকায় সড়কটির জন্য অধিগ্রহণ করা জমির মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তারা সবাই সরকার অধিগ্রহণ করা জমি ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু কিছু মানুষ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে লাইন করে এখনো বাড়ি ভাঙ্গেনি। তবে অভিযোগ উঠার বিষয়ে তাপসী রানী, গৌতম কুমার ও শাহিন আলী বলেন, আমরা নিজেদের জমিতেই আছি। সরকারের অংশটুকু ভেঙ্গে নিয়েছি, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা।

পাবনার রুপপুর-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী বাস চালক মোশাররফ হোসেন বলেন, রাজশাহীর সাথে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের চলাচলে গাড়িগুলোর জন্য এই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নকশা ও মাপ অনুযায়ী যদি সড়ক নির্মাণ না হলে সড়কে দূর্ঘটনার পরিমাণ বাড়বে।

এই বিষয়ে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো আমিও শুনেছি। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে কথা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে বলা হয়েছে।

সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রেজওয়ান করিম বলেন, অধিগ্রহণ করা জায়গা ছেড়ে কাজ করার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেয়ে আবারও সার্ভেয়ার দিয়ে মেপে কাজ শুরু হয়েছে। নকশা ও মাপ অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

চারঘাট-বাঘা৬ আসনের এমপি আবু সাইদ চাঁদ জানান, স্থানীয় ও গনমাধ্যকর্মীদের মাধ্যমে সকল অনিয়মের প্রতিবাদ করতে হবে। অনিয় দুর্নীতি করে ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের কোন সুযোগ নেই। তিনি নিজেও সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছেন। রাজশাহীর এই দুই উপজেলার বাজার এলাকায় দেড কি:মি: সড়কের কোন অনিয়ম হলেও ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে মন্তব্য করেন এমপি।

পড়ুন : নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন