ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ও ৩৪১টি আফটার শকের ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৫৪ মিনিটে দেশটির উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে দ্বিতীয় এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। খবর রয়টার্সের।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপসংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর সুমাত্রার পেমাতাংসিয়ানতার শহর থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূগর্ভের ১৮৩ দশমিক ২ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কোনো সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি।
এর আগে একই দিন ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাগরতলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের পর ৩৪১টি আফটার শক রেকর্ড করা হয়।
সাগরতলে প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হওয়ায় দেশটির আবহাওয়া দপ্তর প্রথমে সুনামি সতর্কতা জারি করে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় তিন ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
প্রথম ভূমিকম্পে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ৫৪টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়ার পাশাপাশি কয়েক শ বাড়িঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যেই ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে উত্তর সুমাত্রায় নতুন করে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হলো।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগ্নেয় মেখলা অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা দেয়। দেশটিতে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি দ্বীপ রয়েছে। এর আগে ২০০৪ সালে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
পড়ুন: দেশ ও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
আর/


