বিজ্ঞাপন

প্রমোশন পেলেও বাংলো ছাড়েননি রেল কর্মকর্তা তৌহিদুর : রাজস্ব ফাঁকি ও ভবিষ্যৎ আবাসন নিশ্চিত রাখতে দখলের অভিযোগ

পদের প্রমোশন হলেও বদলায়নি সরকারি সম্পদের ওপর ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণের কৌশল। বাংলাদেশ রেলওয়ে সৈয়দপুরের কর্মকর্তা তৌহিদুর ইসলামের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া এবং ভবিষ্যতে ইনচার্জ পদ হারানোর আশঙ্কায় প্রক্সি বরাদ্দের মাধ্যমে সরকারি বাংলো ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে দখলে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
​বর্তমানে তিনি সৈয়দপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (ইনচার্জ) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মরত আছেন।

বিজ্ঞাপন

​অনুসন্ধানে জানা যায়, মূলত ‘E-31’ নম্বর বাংলোটি ওপেন লাইন শাখার পিডব্লিউডি/পিডব্লিউও-এর অধীনস্থ এসএসএই (আইডব্লিউ) পদের কর্মকর্তার জন্য নির্ধারিত সরকারি আবাসন। তৌহিদুর ইসলাম পূর্বে সৈয়দপুরে এসএসএই (আইডব্লিউ) পদে কর্মরত থাকা অবস্থাতেই কৌশল অবলম্বন করে তার অধীনস্থ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নামে বাংলা টি নিয়ে রেখেছিল আবারো তিনি সাইফুল ইসলামের (পদবি: ওয়েম্যান) নামে বাংলোটি বরাদ্দ নেওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং নিজে সেখানে বসবাস শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্মকর্তা পদের বড় অঙ্কের বাড়িভাড়া কর্তন এড়ানো এবং কম বেতনের কর্মচারীর নাম ব্যবহারের কারণে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে রেল সংশ্লিষ্টদের দাবি।

​রেলওয়ের একটি সূত্রের খবর, পরবর্তীতে তৌহিদুর ইসলাম পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (ইনচার্জ)-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নিয়ম অনুযায়ী সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলীর (এইএন) বাংলোতে আবাসন পরিবর্তন করেন। কিন্তু প্রমোশনের পরও তিনি আগের ‘E-31’ বাংলোটির নিয়ন্ত্রণ ছাড়েননি।
​অভিযোগ রয়েছে, সৈয়দপুর ও পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন কর্মস্থলে থাকলেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে এই বাংলোটির দখল বজায় রাখেন। বহু কর্মকর্তা উক্ত বাংলোটি বিধিমোতাবেক বরাদ্দের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেও এবং আবেদনের উদ্যোগ নিলেও, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পর্কের দোহাই দিয়ে তিনি বাংলোটির দখল হস্তান্তরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।

​রেলকর্মীদের একাংশের দাবি, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা ইনচার্জ পদ চলে গেলে যেন আবাসন সংকটে না পড়েন, সেই চিন্তা থেকে কর্মচারী সাইফুল ইসলামকে ‘প্রক্সি’ হিসেবে ব্যবহার করে বাংলোটি নিজ দখলে আটকে রেখেছেন। প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হয়েও এভাবে সরকারি আবাসন দখলে রাখাকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মকর্তা তৌহিদুর ইসলাম দাবি করেন, “এটি মূলত পিডব্লিউ-র বাংলো। নিয়ম মেনে কোনো কর্মকর্তা যদি এই বাংলোর জন্য আবেদন করেন, তবে আমি তা ছেড়ে দেব।”

​তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ তদন্তপূর্বক দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পড়ুন:মেহেরপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন