মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী বাজারে হিন্দু ও মুসলিম শ্যামল দত্ত ও মো. গোলাম সরোয়ার নামে দুই ব্যবসায়ীর মধ্যে ছোটবেলা থেকেই বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। সেই বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়ার ভয়ে এখনও তারা বিয়ে করেনি কেউ। হিন্দু ও মুসলিম বন্ধু বিয়ে না করে ব্যবসা করছেন একসাথে যা নজর কেটেছে গোটা দেশজুড়ে। শ্যামল দত্তর (৫৬) বাড়ি বাবুখালী ইউনিয়নের দাতিয়াদহ এবং তিনি ওই গ্রামের মৃত চন্দ্র দত্তের দ্বিতীয় পুত্র। এদিকে মোঃ গোলাম সারোয়ার বাবুখালী ইউনিয়নের বাঁশো গ্রামের মৃত শাহজদ্দিন মোল্লার দ্বিতীয় পুত্র।
দুই বন্ধু ও স্থানীয়রা জানায়, যখন বিবাহের বয়স হয়েছে তখন তারা বিবাহের কথা ভাবতে পারেনি। এক বন্ধু বিয়ে না করায় অন্য বন্ধুও বিয়ে না করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এখন তারা দুজন জীবন মরনের সাথি।
অনেক ছোটবেলায় বাবুখালী আফতাব উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করা এবং খেলাধুলা ও একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া দুই বন্ধুর মধ্যে ১৯৯৭-৯৮ সাল থেকে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়।
তাদের মধ্যে এতটা ভালো সম্পর্ক যে একে অপরের জীবন মরণের সাথী। দুই ধর্মের দুজন যেমন ঈদ বা পূজার উৎসবে একে অপরের বাড়িতে খাওয়া দাওয়া চলাফেরা করে থাকেন। নামাজের সময় হলে গোলাম সরোয়ার মসজিদে যান নামাজ আদায় করতে, এসময় শ্যামল দত্ত দোকান সামাল দেন একাই। দোকানে বেচাবিক্রির হিসাবটাও কারো কাছে লাভ লচের জন্য ঝামেলা নেই। মানুষের জীবনে বেকার থাকার থেকে কিছু একটা করা উচিত তাই ভেবে শ্যামল দত্ত ও গোলাম সারোয়ার দীর্ঘদিন ধরে মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী বাজারে সেবা ষ্টোর নামের একটি মুদি দোকান করেছেন।
দুই বন্ধু মিলেমিশে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। অনেক মানুষই যখন দুই বন্ধুর কথা জানেন তখন এই সেবা ষ্টোরের সামনে এসে ভিড় করেন।
বর্তমান যুব সমাজের কাছে তাদের এই বন্ধুত্ব যেনো অবাক করার মত। যেখানে সামন্য বিষয় নিয়ে বন্ধুদের মাঝে ঝগড়া বিবাদ হয় সেখানে একজন হিন্দু আরেকজন মুসলিম হয়েও যে এভাবে জীবন পার করছেন এটা যেনো এক বিরাট দৃষ্টান্ত। বন্ধুত্বের এই আত্মত্যাগ ও ভালোবাসা দেখে স্যালুট জানিয়েছেন শ্যামল দত্ত ও গোলাম সরোয়ারকে। আজীবন বেঁচে থাকুক তাদের এই বন্ধুত্ব এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
পড়ুন : সেবার মান উন্নয়নে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা


