যারা জামায়াত শিবিরকে রাজাকার, আল-বদর, জঙ্গি বলবে তাদের জারজ ঘোষণা দিয়ে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা বলেছেন, বাংলাদেশের এই ৫৫ বছরে যে গেমটা জামাত শিবিরের উপরে খেলা হয়েছে, রাজাকার, আল-বদর, জঙ্গি এগুলো ভারতের একটা নাটক। এই বাংলাদেশে এই নাটক আর খায়না, ভবিষ্যতেও আর কেউ খাবেনা ইনশাল্লাহ। আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সংসদে বলেছিলেন আমাকে যারা রাজাকার বলে তারা পিত্র পরিচয়হীন অবৈধ সন্তান। এখন থেকে আর কোনদিন কেউ যদি জামায়তে ইসলামী ও শিবিরের উপর এরকম ট্যাগ দেয় তাহলে আমি ঘোষণা দিলাম ঐগুলো ঐরকম (জারজ)।
আজ রবিবার বাদ আসর কুষ্টিয়া শহরের ৬ রাস্তার মোড়ে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। সদর আসনের সংসদ সদস্য আমীর হামজার ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
তাঁর দেয়া বক্তব্যে মুফতি আমির হামজা বলেন, এটা আর এখন কোন অধিকার পরিষদ নেই, এটা এখন গণধিকৃত পরিষদ হয়েছে। আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত রানিং একজন জনপ্রতিনিধি। আমার সামনে পুলিশের গাড়ি, পিছনে পুলিশের গাড়ি এরপরেও যদি তারা আমাকে মেরে ফেরার উদ্দেশ্যে হামলা করে, আমি বলব এদেরকে সন্ত্রাসী বলতে আর কোন বাধা নেই।
এ সময় হুঁশিয়ার তিনি বলেন, কোন সন্ত্রাসের জায়গা আমার এই কুষ্টিয়ায় হবে না। আমরা যতদিন আছি, বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, কুষ্টিয়ার তৌহিদি জনতা কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আমরা চলতে দেবো না।
প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আহ্বান জানাই কোন দলের তাবেদারী করা যাবে না। আপনারা সরকারের লোক সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন। এই কুষ্টিয়ার ডিসি, এসপি, ওসি, ইউএনও যারা দায়িত্বে আছেন জনগণের জন্য যদি কাজ করেন তাহলে এই কুষ্টিয়া তে থাকবেন, না হলে আমরা আপনাদের বিদায় করতে বাধ্য হব।
তিনি আরো বলেন, আল্লাহর নামে শপথ নিয়ে আমাদের প্রতিদিন বাড়ি থেকে বের হওয়া লাগে। আমার আসন বাংলাদেশের ভিতরে একটি আলাদা আসন। আমি তো বলেছি এখানকার সরকার আমি। কোন চাঁদাবাজি আমার আসনে চলবে না ইনশাল্লাহ।
আমীর হামজা বলেন, কাউকে চাঁদা দিবেন না, কেউ যদি চাইতে আসে তাহলে বলবেন এমপি সাহেবের কাছে দেওয়া আছে। ওখান থেকে ভাগ নিয়ে নেন। কার বাবার বুকের কলিজা কত বড় হয়েছে আমি দেখব।
তিনি বলেন শেষে আমি আর একটা কথা বলতে চাই, বাংলাদেশের এই ৫৫ বছরে যে গেমটা জামাত শিবিরের উপরে খেলা হয়েছে, রাজাকার, আল-বদর, জঙ্গি এগুলো ভারতের একটা নাটক। এই বাংলাদেশে এই নাটক আর খায়না, ভবিষ্যতেও আর কেউ খাবেনা ইনশাল্লাহ। আমরা সন্ত্রাসীদেরকে জানিয়ে দিতে চাই, এই দেশে জামায়াতে ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের উপরে এই ট্যাগ যদি কেউ দিতে চাই, আমি স্পষ্ট ভাবে আপনাদেরকে বলছি, আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সংসদে বলেছিলেন আমাকে যারা রাজাকার বলে তারা পিত্ত পরিচয়হীন অবৈধ সন্তান। এখন থেকে আর কোনদিন কেউ যদি জামায়তে ইসলামী ও শিবিরের উপর এরকম ট্যাগ দেয় তাহলে আমি ঘোষণা দিলাম ঐগুলো ঐরকম (জারজ)।
কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, গতকাল প্রায় এই সময় ঠিক এই সময়, এই এলাকার কিছু কুলাঙ্গার, পরিচয়হীন জারজ সন্তান আমীর হামজার উপর আক্রমণ করেছে। আমীর হামজা শুধু কুষ্টিয়া সম্পদ নয়, সে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সম্পদ, তার কিছু হলে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে।
তিনি আরো বলেন, যারা হামলা চালিয়েছে আমীর হামজার উপর, তাদের সাহস নাই আমীর হামজার উপর আক্রমণ করার। এদেরকে লিড দিয়েছে যারা, ভারতের ইন্ধনে এক সময় জামায়াত-শিবিরের বাংলাদেশকে বাংলাদেশ থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করেছিল হাসিনা বুবু। রান্না করা ভাত রেখে পালাতে হয়েছে তাকে, যারা আমীর হামজার উপর হামলা করার ইন্ধন যুগিয়েছে তাদের ভাত রান্না করার সুযোগও দেওয়া হবে না। এই সয়সদ সদস্য বলেন, আমরা বাংলাদেশে একেবারে চুনোপুটি না জামায়ত-শিবিরের ভিত অনেক গভীরে। জামায়াত-শিবিরের সাথে লাগতে এসে যারা পালাইছে, তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিন।
সামবেশে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, সাবেক সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার সহ জেলা জামায়াতের নেতাকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিকেলে জামায়াতের নেতাকর্মিরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সমবেত হয়। বাদ আসর সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ শেষে শহরের ৬রাষত্মার মোড়ে সমাবেশ করে। মিছিলে জামায়াতে কিছু নেতাকর্মির হাতে লাঠি দেখা গেছে। গত শনিবার কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজার ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে দলটির নেতাকর্মিরা।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

