বিজ্ঞাপন

মাছের স্বাদ এবার কাটলেট-ফিঙ্গার-মোমোতে, লক্ষ্মীপুরে নজর কাড়ছে ‘টাইম পাস’

ফাস্টফুডের জনপ্রিয়তার সময়ে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর বিকল্প হিসেবে মাছ দিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের রেডি-টু-ইট খাবার। লক্ষ্মীপুরের তরুণ উদ্যোক্তা মো. রিয়াদের এমন উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজারে সাড়া ফেলেছে। মাছের মূল্যসংযোজনের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে এ উদ্যোগকে ঘিরে।
লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সামনে গড়ে ওঠা ‘টাইম পাস’-এ তৈরি হচ্ছে ফিশ কাটলেট, ফিশ বল, ফিশ ফিঙ্গার, ফিশ বার্গার ও ফিশ মোমোসহ বিভিন্ন ধরনের মাছভিত্তিক রেডি-টু-ইট খাবার।
২০২৫ সালের শেষের দিকে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়েই স্থানীয় ক্রেতাদের নজর কেড়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে মানসম্মত মাছ দিয়ে তৈরি করা হয় এসব খাবার। উদ্যোক্তার দাবি, কোনো ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ ছাড়াই তৈরি করা এসব পণ্য সামান্য গরম করেই পরিবেশন করা যায়। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
উদ্যোক্তা মোঃ রিয়াদ বলেন, স্বাদ, মান ও স্বাস্থ্যসম্মত প্রস্তুত প্রণালীর কারণে এসব খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে ক্রেতাদেরও। তাদের মতে, প্রচলিত ফাস্টফুডের তুলনায় মাছভিত্তিক এসব খাবার যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিকর হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের জন্যও এটি ভালো বিকল্প।
এ উদ্যোগে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং সোপিরেটের স্পেশাল প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট (এগ্রিকালচার) কর্মসূচির আওতায় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পেয়েছেন উদ্যোক্তা। প্রশিক্ষণ, উৎপাদন উপকরণ, পণ্য উন্নয়ন, বিপণন ও নিয়মিত কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে উদ্যোগটি।
সদর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মাছের মূল্যসংযোজন করে রেডি-টু-ইট খাবার উৎপাদনের এমন উদ্যোগ দেশের মৎস্য খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এতে মাছের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার মানুষের কাছে সহজে পৌঁছাবে এবং সৃষ্টি হবে নতুন উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ।
সোপিরেট এর ি সিইও মো. শরীফ হোসেন বলেন, মাছের মূল্যসংযোজন করে রেডি-টু-ইট খাবার তৈরির মাধ্যমে উদ্যোক্তারা একদিকে যেমন ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের সুযোগ তৈরি করছেন, অন্যদিকে মাছের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করছেন। সোপিরেটের মৎস্যখাত কর্মসূচির আওতায় আমরা উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করছি। এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং দেশের মৎস্যসম্পদের সর্বোচ্চ মূল্যসংযোজন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এদিকে সব মিলিয়ে মাছের প্রচলিত ব্যবহারকে নতুন মাত্রা দিয়ে লক্ষ্মীপুরে তৈরি হওয়া ‘টাইম পাস’ শুধু একটি ফাস্টফুড উদ্যোগ নয়, বরং মাছের মূল্যসংযোজন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনাময় একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন:নারায়ণগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সীমান্ত হত্যা: ৩ ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন