বিজ্ঞাপন

টাঙ্গাইলে অসুস্থতার কারণে রাস্তায় ফেলে যাওয়া সেই জামাল উদ্দিনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রবাস ফেরত অসুস্থ স্বামীকে রাস্তায় ফেলে দেয়ার ১৬ দিন পর জামাল উদ্দিনের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়। মৃত জামাল উদ্দিন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে।

দীর্ঘ প্রবাস জীবনে যা উপার্জন করেছিলেন, তার সবটুকুই খরচ করেছিলেন স্ত্রী, সন্তানদের জন্য। কিন্তু দেশে ফিরে যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন সেই স্ত্রী ও মেয়ে তাঁকে পরিত্যক্ত ছেঁড়া কাগজের মতো রাস্তায় ফেলে রেখে যায়।

জামাল উদ্দিনের ভাতিজি জামাই শাহ আলম বলেন, রাস্তা থেকে উদ্ধার করার পর জামাল উদ্দিন এতদিন তাঁর বাড়িতেই ছিলেন। স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতায় কিছু চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। তবে সেই চিকিৎসা পর্যাপ্ত ছিল না। মূলত তাঁর কিডনিজনিত জটিল রোগ ছিল। চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন ছিল। আমরা গরিব মানুষ এত টাকা কোথায় পাবো।

তিনি আরো বলেন, সোমবার দুপুরে জামাল উদ্দিন সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রায় ১৪ বছর আগে জামাল উদ্দিন পৈতৃক ভিটাসহ সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন । পরে দীর্ঘ ১০ বছর তিনি সৌদি আরবে ছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, প্রবাসজীবনের উপার্জিত সব টাকা জামাল উদ্দিন স্ত্রী-সন্তানের কাছে পাঠিয়েছেন। মাস চারেক আগে দেশে ফিরে স্ত্রীর নানা অপকর্ম তাঁর কাছে ধরা পড়ে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিবাদের এক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়। পরে তিনি ছেলে আবু রায়হানের সঙ্গে গাজীপুরে বসবাস করতে থাকেন। সেখানে তাঁর কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসা করার পরিবর্তে একটি গাড়িতে করে অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে সখীপুরের পৈত্রিক ভিটায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত ১ আগস্ট রাতে তাঁকে সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামে তাঁর পৈতৃক বাড়ির সামনে ফেলে রেখে গাড়িচালক চলে যান। পরদিন ২ আগস্ট দিনের বেলায় বিষয়টি সবার নজরে আসে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ইটের টুকরা পড়াকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনায় শ্রমিককে রড দিয়ে পিটিয়ে জখম

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন