বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর, বছরে তিন ফসলের স্বপ্ন দেখছেন রায়গঞ্জের কৃষকরা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে দীর্ঘ ১৫ বছরের জলাবদ্ধতা নিরসন করা হয়েছে। স্থানীয়দের উদ্যোগের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সহযোগিতায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করায় প্রায় দুই হাজার বিঘা কৃষিজমি এখন চাষাবাদের উপযোগী হয়েছে। এতে বছরে একবার ফসল উৎপাদনের পরিবর্তে ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন রবি ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হয়েছে। উপকৃত হবেন এলাকার প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার কৃষক।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি জমে থাকায় বছরের বেশিরভাগ সময়ই কৃষিজমি পানির নিচে থাকত। ফলে এসব জমিতে বছরে একবার আমন ধান চাষ করা সম্ভব হতো। জলাবদ্ধতার কারণে জমি দুই বা তিন ফসলি করার সুযোগ না থাকায় কৃষকদের উৎপাদন ও আয় দুটিই কমে যায়।

দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও বিএডিসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হয়ে কৃষিজমিতে ফিরেছে চাষাবাদের সুযোগ।

বিএডিসির রায়গঞ্জের সহকারী প্রকৌশলী আনন্দ কুমার বর্মণ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে আমন ধান ছাড়া এ এলাকায় অন্য কোনো ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হতো না। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় জমিগুলো জলাবদ্ধ থাকত। এখন পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার ধান উৎপাদন করা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর উদ্যোগে শুরু হওয়া এ কাজে বিএডিসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এলাকার উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে জমিগুলোতে বছরে এক ফসলের বেশি চাষ করা সম্ভব হচ্ছিল না। স্থানীয় উদ্যোগে জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পানি নিষ্কাশন হওয়ায় এখন এসব জমিতে বছরে একাধিকবার ফসল চাষ করা সম্ভব হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও কিছু সমস্যার কথা সরকারের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের ফলে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। দীর্ঘদিন পর বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি চাষাবাদের আওতায় আসায় এলাকায় কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের আয় ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

পড়ুন : রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার যুক্ত হচ্ছে ‘ড্রোন সার্ভিলেন্স’

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন