ঢাকার দোহার উপজেলার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের জেলে পাড়া ও রাইপাড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পবন বেপারী বাড়ি থেকে দিপুর দোকান পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থা। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন হাজারো মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার বিভিন্ন ভাঙা অংশে পানি জমে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, এমনকি পায়ে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ‘পবন বেপারী সড়ক’ নামক প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের কিছু দূর পর পর বিভিন্ন অংশ ভেঙে গর্তে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টিতে কোথাও কোথাও রাস্তার ভাঙা অংশে পানি জমে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনাও।
এলাকাবাসীরা জানান, রাইপাড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য এটি প্রধান যোগাযোগ পথ। রাস্তাটি পাকা হলেও মাঝখানের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের কিছুদূর পর পর ভেঙে গর্ত তৈরি হয়েছে। যা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, অনেক আগে রাস্তার ভাঙা অংশে শুধু কোনোরকম পিচ ঢালাই করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা টেকশই নয় বলে আবারো রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। তাই তাদের দাবি, এখানে স্থায়ীভাবে রাস্তার সংষ্কার কাজ করে তাদের এ দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফাহিম জানান, এ রাস্তাটি পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের জেলে পাড়া ও ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা। এবং জয়পাড়া যাওয়ার সব থেকে শর্টকাট রাস্তা। বর্তমানে যার বেহাল দশা। বর্ষা মৌসুম এলে রাস্তাটির আরো খারাপ অবস্থা হয়ে আমাদের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আরো জানান, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং রোগী পরিবহনের জন্য এই সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
রিকশাচালক রবিউল জানান, এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নেওয়া খুবই কষ্টকর। রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ ভাঙা হওয়ায় গাড়ি আটকে যায়, এতে আয়ও কমে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থী আলিফ জানান, ভাঙা হওয়ায় এমনিতেই এই রাস্তাটি চলাচলের অনপুযোগী। তার উপর বৃষ্টির দিনে স্কুলে যেতে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। তাই বেশি ভাড়া দিয়ে বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়।
স্থানীয় গৃহিনী বিথী বলেন, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে। জরুরি সময়ে এই রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না। রাস্তার এমন অবস্থার কারণে সামাজিকভাবেও প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা প্রকৌশলী রাজু আলম বলেন, আমি রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। কেউ জানায়নি। তবে জনসাধারণের আবেদনের আলোকে রাস্তাটির সংস্কার কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
দোহার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না। রাস্তাটি সংষ্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
পড়ুন : শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৫ পাওয়ার চেয়ে ভালো মানুষ হতে হবে: ডেপুটি স্পিকার


