শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই চলবে না, তাদেরকে মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সত্যিকারের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। একইসঙ্গে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল এবং যুবসমাজের ওপর প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরও সচেতন হতে হবে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের আসন্ন সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম।
এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কিছুটা দেরিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য শুরুতেই আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, “এই আয়োজনটি কেবল একটি সংবর্ধনা নয়; এটি ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং আপামর জনসাধারণের জন্য বিশেষ বার্তা। আমরা চাই আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে ডিসি, এসপি হয়ে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেতৃত্ব দিক।”
এ সময় তিনি কলমাকান্দার কৃতী সন্তান ও বর্তমান প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাউসার আজিজের উদাহরণ টেনে শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান।
কৃতী শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে তিনি বিশ্ববিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক লিও টলস্টয়ের কালজয়ী বই ‘হাউ মাচ ল্যান্ড ডাজ এ ম্যান নিড’ (How much land does a man need) উপহার দেন। বইটি প্রদানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই গল্পের মূল নির্যাস হলো সততা। আমি চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা সততার আদর্শ বুকে ধারণ করে বেড়ে উঠুক।”
বর্তমান প্রজন্মের মোবাইল ফোন আসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, “সন্তানদের প্রতি যত্নশীল হোন। প্রযুক্তি বা মোবাইলের অবশ্যই প্রয়োজন আছে, সেটি যেন কোনোভাবেই আসক্তিতে পরিণত না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। মোবাইল সব গিলে খাচ্ছে- এই ধ্বংসাত্মক প্রবণতা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে।”
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “মাদক এমন এক মরণব্যাধি যা কেবল একজন ব্যক্তিকেই নয়, পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় তিনি এলাকার দুটি বিদ্যালয়- বড়ুয়াকোনা সাধু ফ্রেডারিক উচ্চ বিদ্যালয় এবং নলছাপড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক খারাপ ফলাফলের কথা উল্লেখ করে চরম হতাশা ব্যক্ত করেন।
তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলেন, “শুধুমাত্র দৃষ্টিনন্দন ভবন থাকলেই হবে না, শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে। যারা বারবার খারাপ ফলাফল করছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।” সংস্কৃত শ্লোক ‘ছাত্রনং অধ্যয়নং তপঃ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্রজীবনে অধ্যয়নের চেয়ে বড় কোনো তপস্যা নেই।
গত সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর নয়, বরং কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরের আপামর জনসাধারণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে দলমত নির্বিশেষে সকলের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করব। আমার দেওয়া প্রতিটি ওয়াদা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে বদ্ধপরিকর।”
পরিশেষে তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পিতা-মাতা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান এবং উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তার বক্তব্য শেষ করেন।
পড়ুন : পর্ব-১: টাঙ্গাইলে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার


