চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় নিহত ১০ শ্রমিকের পরিবারের মাঝে মোট ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। রোববার বিকেলে ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ৭ লাখ টাকার চেক। এর সঙ্গে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা নগদ এবং শ্রম আদালতের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে মরদেহ হস্তান্তরের সময় প্রত্যেক পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রতিটি পরিবার মোট ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছে।
ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডে দুর্ঘটনার পর নিহত শ্রমিকদের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন অনেক পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাফুজুল হক, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম, ফেরদৌস স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফেরদৌস ওয়াহিদসহ সংশ্লিষ্টরা।
বিএসবিআরএ সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী বলেন, যে পক্ষের কাছ থেকে জাহাজটি কেনা হয়েছে, তাদের দুর্ঘটনার বিষয়টি জানানো হয়েছে। জাহাজটি বিক্রির আগে কোনো ধরনের ত্রুটি বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বিদেশি কোনো কোম্পানির কাছ থেকে জাহাজ কেনার সময় নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। জাহাজের ভেতরে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাসসহ অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য নিশ্চিত করেই জাহাজ কেনার বিষয়ে কাজ করা হবে।
ফেরদৌস স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, ভবিষ্যতেও নিহত শ্রমিকদের সন্তানদের দেখাশোনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি পাশে থাকবে। কোনো পরিবার ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়লে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়ে দায়িত্ব শেষ নয়, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ করছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দুর্ঘটনার জন্য কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, জাহাজ ভাঙা শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ জড়িত। দেশের অর্থনীতিতে এ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকিতে রেখে কোনো শিল্প পরিচালনা করা যাবে না। এ শিল্পে দুর্ঘটনার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হবে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর জাহাজ ভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, জাহাজ কেনার আগে ঝুঁকি যাচাই এবং ইয়ার্ডে নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার মূল কারণ চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পড়ুন : সবুজায়নের লক্ষ্যে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত


