বিজ্ঞাপন

যাত্রী ছাউনি সচল-অচলে রয়েছে জননিরাপত্তার প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর চাঁদর মোড়ে শীতাতপ কক্ষে

রাজশাহী সিটি থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১২০টি যাত্রী ছাউনির নেই কোন হদিস। যাত্রী ছাউনি সচল-অচলে রয়েছে জননিরাপত্তার বড় প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো চাঁদর মোড়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রন কক্ষে উদাসীন পরিকল্পনায়। অর্থ বরাদ্দেও রয়েছে অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে নির্মিত যাত্রী ছাউনির সংখ্যা প্রায় ৪৫ থেকে ৫০টি। অবকাঠামোগত পরিবর্তন, সড়ক চওড়াকরণ এবং যথাযথ তদারকির অভাবে এর বড় একটি অংশ হারিয়ে গেছে বা অবহেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

বর্তমানে মাত্র ১৫-২০টি যাত্রী ছাউনি সচল বা চিহ্নিত করার মতো অবস্থায় আছে। নির্মাণের সাল ও সময়কাল প্রথম ও প্রধান পর্যায় (১৯৯৭ সাল)। রাজশাহীতে প্রথম উল্লেখযোগ্য হারে সুপরিকল্পিতভাবে টিনশেড ও কংক্রিটের যাত্রী ছাউনি তৈরি শুরু হয় ১৯৯৭ সালে। দ্বিতীয় পর্যায় (২০১১-২০১২ সাল) ২০১১ সালে সিটি কর্পোরেশন ও বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে নতুন করে আধুনিক নকশার অর্ধশতাধিক যাত্রী ছাউনি পুননির্মাণ ও সংস্কার করা হয়।

সাম্প্রতিক উন্নয়নে রাজশাহী শহরের সমন্বিত নগর পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আধুনিক যাত্রী ছাউনি ও ওয়েটিং জোন যুক্ত করার কাজ হাতে নেওয়া হয়। মূল উদ্দেশ্যআবহাওয়া থেকে সুরক্ষা। রাজশাহী অঞ্চলে গ্রীষ্মকালের তীব্র তাপদাহ ও বর্ষাকালের হঠাৎ বৃষ্টি থেকে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের তাৎক্ষণিক আশ্রয় দেওয়া। শৃঙ্খলিত গণপরিবহন, নির্দিষ্ট স্থানে গণপরিবহন (বাস, হিউম্যান হলার, অটো-রিকশা) দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করে সড়কের মাঝখানে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করা এবং যানজট নিরসন করা। নিরাপদ অপেক্ষাস্থল, নারী, শিশু, প্রবীণ ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পথচারীদের জন্য নিরাপদে বসে বা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার সুবিধা সৃষ্টি করা।

পথচারী ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। চরম তাপদাহ বা হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টির সময়ে সাধারণ যাত্রী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কোনো প্রকার আশ্রয় বা বসার সুযোগ থাকে না। সড়কে বিশৃঙ্খলা ও যানজট বৃদ্ধি হচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থানে বাস বা অটো-রিকশা থামার সুযোগ না থাকায় প্রধান সড়কের ওপর যেখানে-সেখানে যানবাহন থামানো হয়, যা মারাত্মক যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। নিরাপত্তাহীনতা ও অপরাধের অভয়ারণ্য সম্ভাবনা রয়েছে। দখলকৃত বা পরিত্যক্ত যাত্রী ছাউনিগুলো রাতের বেলা ভাসমান দোকানদার, মাদকসেবী ও বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়, যা সাধারণ যাত্রী ও নারীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। নগর সৌন্দর্যের হানি হয়। ময়লা-আবর্জনা, অবৈধ পোস্টার, ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা ভ্রাম্যমাণ দোকান ও ব্যানার-ফেস্টুনের কারণে পরিচ্ছন্ন নগরী রাজশাহীর নান্দনিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।

আগামীতে প্রতিকার ও করণীয় হলো উচ্ছেদ অভিযান ও নিয়মিত তদারকি করা। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অবৈধ দখলদার ও ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা। আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ও রক্ষণাবেক্ষণ করা। পুরনো অবকাঠামো ভেঙে ডিজিটাল ডিসপ্লে (বাসের সময়সূচি ও রুটের তথ্য সহ), সিসিটিভি ক্যামেরা ও আলোর সুব্যবস্থা সংবলিত স্মার্ট যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ চুক্তি করা। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের ওপর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করা। বিনিময়ে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা। স্থান পুনঃনির্ধারণ ও নতুন নকশা তৈরী করা। বর্তমানে যেসব স্থানে যাত্রী ছাউনি প্রয়োজন (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়) সেখানে নতুন করে যুক্তিসঙ্গত স্থানে এগুলো নির্মাণ করা এবং সহজে দখল না হওয়ার মতো নকশা ব্যবহার করা।

রাজশাহী শহর থেকে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মোড় পর্যন্ত প্রায় ১৫০ কিলোমিটারের এই জাতীয় মহাসড়কে আনুমানিক ৪০ থেকে ৬০টি ছোট-বড় যাত্রী ছাউনি বা বাস-স্টপেজ শেড ছিল। কিন্ত চার লেন ও সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মহাসড়ক সংলগ্ন সিংহভাগ যাত্রী ছাউনিই ভেঙে ফেলা হয়েছে বা পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে সচল বা চিহ্নিত করার মতো যাত্রী ছাউনির সংখ্যা ১৫ থেকে ২০টির বেশি নয়।

বর্তমান যে অঞ্চলগুলোতে যাত্রী ছাউনি রয়েছে এবং পুর্বে ছিল কিন্ত বর্তমান এর বাস্তব চিত্র হলো। রাজশাহী কাটাখালী ও পুঠিয়ার মধ্যে তালাইমারী, কাটাখালী বাজার, বেলপুকুর, বিড়ালদহ ও পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা। নাটোর জেলার মধ্যে রয়েছে ঝলমলিয়া, নাটের বাইপাস, বড়াইগ্রাম এবং বনপাড়া বাইপাস মোড়।

পাবনা ও সিরাজগঞ্জ সংযোগ (বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক) সড়কে কদমতলী, নাটোর-সিরাজগঞ্জ সীমানা সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড, তাড়াশ মোড় ও মহিষলুটি। হাটিকুমরুল থেকে যমুনা সেতু পশ্চিম পাড় পর্যন্ত হাটিকুমরুল গোলচত্বর, কড্ডার মোড় ও সায়দাবাদ-যমুনা সেতু পশ্চিম স্টেশন এলাকা।

মহাসড়ক উন্নয়ন ও চার লেনে উন্নীতকরণে মহাসড়ক চওড়া করার সময় সড়কের পাশের পুরনো যাত্রী ছাউনিগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে অনেক জায়গায় নতুন করে তা নির্মাণ করা হয়নি। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নীতি অনুযায়ী মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের স্বার্থে দূরপাল্লার বাসের জন্য নির্ধারিত বাস স্টেপেজ ছাড়া যত্রতত্র যাত্রী ছাউনি তৈরিতে নিরুৎসাহিত করা হয়।
অবৈধ দখল ও তদারকির অভাবে স্থানীয় বাজার ও মোড়গুলোতে থাকা ছাউনিগুলো দোকানপাট, টং দোকান বা পার্কিংয়ের দখলে চলে যাওয়ায় অনেকগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তীব্র তাপদাহ ও বৃষ্টিতে অবর্ণনীয় কষ্টদায়ক হয়। দেশের অন্যতম উষ্ণ অঞ্চল বরেন্দ্র এলাকার এই মহাসড়কে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের রোদ বা বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার কোনো সুযোগ থাকে না। বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে বা রাস্তার পাশের গাছ ও দোকানের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। নারী, শিশু ও বয়স্কদের অসহায়ত্ব চরম দূর্ভোগ হয়। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করা বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী, ছোট শিশু ও বয়স্কদের জন্য মারাত্মক কষ্টদায়ক।

সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির চরম ঝুঁকিমহাসড়কের ওপর অসচেতন অবস্থান। নির্দিষ্ট কোনো বাস থামবে বা ছাউনি না থাকায় যাত্রীরা বাসের দেখা পেতে সরাসরি মহাসড়কের পিচঢালা মূল অংশে বা একদম ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকেন। হঠাৎ বাস থামানো ও ধাক্কা লাগার ভয় রয়েছে। দূরপাল্লার দ্রুতগতির বাস বা ট্রাকের চলাচলের মাঝে দূর থেকে যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চালক হঠাৎ ব্রেক কষে, যা পেছনে থাকা অন্যান্য যানবাহনের সাথে সংঘর্ষ বা যাত্রীদের চাপা পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি বাড়ায়।

তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খল বাস সার্ভিস যত্রতত্র বাস দাঁড় করানো হয়। চালকরা নির্দিষ্ট স্থানের বদলে মোড়ে মোড়ে যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করায়। এতে মহাসড়কের গতি কমে গিয়ে কৃত্রিম যানজটের সৃষ্টি হয়। লেন নিয়মের চরম লঙ্ঘন হয়। মহাসড়কে সুনির্দিষ্ট পিক-আপ পয়েন্ট না থাকায় বাসগুলো বেপরোয়াভাবে লেন পরিবর্তন করে যাত্রীদের কাছে যেতে চায়।

যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সামাজিক ঝুঁকিছিনতাই ও অপরাধের সুযোগ থাকে। রাতের বেলা মহাসড়কের নিরিবিলি মোড়গুলোতে ছাউনি ও আলোর ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি ছিনতাইকারী বা বখাটেদের সুযোগ করে দেয়। বিশ্রাম বা টয়লেট সুবিধার অভাব রয়েছে। দূরপাল্লার যাত্রীদের আকস্মিক কোনো প্রয়োজনে নিরাপদ অপেক্ষাস্থল না থাকায় বিশৃঙ্খলা ও দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ব্যবসা ও ফুটপাতে বিশৃঙ্খলা দোকানপাটে অতিরিক্ত ভিড় হয়। বৃষ্টি বা রোদের সময় যাত্রীরা মহাসড়কের পাশের দোকানগুলোর ছাউনির নিচে ঠাঁই নেন, ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের বেচাকেনায় বিঘ্ন ঘটে এবং পথচারীদের হাঁটার জায়গা বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের মূল পরিকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রধান দায়িত্ব সওজ-এর। মহাসড়ক চওড়া বা চার লেনে উন্নীত করার সময় পরিকল্পনাতেই সুনির্দিষ্ট দূরত্বে (বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংযোগস্থলে) ‘বাস থামা সহ আধুনিক যাত্রী ছাউনি অন্তর্ভুক্ত করা। ভাঙাচোরা ও হারিয়ে যাওয়া যাত্রী ছাউনিগুলোর দ্রুত তালিকা তৈরি করে পুননির্মাণ করা।

স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ) মহাসড়কটি যেসব স্থানীয় প্রশাসনিক এলাকার ওপর দিয়ে গেছে (রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, পুঠিয়া বা নাটোর জেলা পরিষদ-উপজেলা), তারা স্থানীয় নাগরিক সুবিধা ও অসুবিধার জন্য দায়ী। তাদের করণীয় হলো, সওজ-এর সাথে সমন্বয় করে নিজস্ব অর্থায়নে কিংবা অ্যাডিপি (অউচ) বরাদ্দের মাধ্যমে যাত্রীবান্ধব আধুনিক অপেক্ষাস্থল ও গণশৌচাগার গড়ে তোলা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ ও সুনির্দিষ্ট রুটের বাস থামার স্থান নির্ধারণের আইনি কর্তৃত্ব বিআরটিএ-এর।

মহাসড়কে যত্রতত্র বাস থামানো বন্ধে সুনির্দিষ্ট ‘অফিসিয়াল বাস স্টপেজ’ চিহ্নিত করা এবং সেখানে যাত্রী ছাউনি স্থাপনের জন্য সওজ ও হাইওয়ে পুলিশকে সুপারিশ করা। নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা করালে পরিবহনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। মহাসড়কের শৃঙ্খলা, যানজট মুক্ত রাখা এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলো হাইওয়ে পুলিশের কাজ। যাত্রী ছাউনি বা নির্দিষ্ট বাস থামা ছাড়া মহাসড়কের মূল লেনে বাস দাঁড় করানো কঠোরভাবে বন্ধ করা। দখল হয়ে যাওয়া যাত্রী ছাউনিগুলো খালি করতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করা এবং রাতে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে টহল জোরদার করা।

জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (টঘঙ) কার্যালয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত রাখার নির্বাহী ক্ষমতা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের হাতে। জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির নিয়মিত সভায় এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। মহাসড়কের পাশে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাত্রী ছাউনি ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা। যাত্রী ছাউনি ধ্বংস ও বেদখল হওয়ায় আনুমানিক সরকারি আর্থিক ক্ষতিরাজশাহী মহানগরী ও রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে বিভিন্ন সময়ে নির্মিত যাত্রী ছাউনিগুলো ধ্বংস, ভাঙচুর ও বেদখল হওয়ার ফলে সরাসরি এবং পরোক্ষ উভয় ধরনের সরকারি ক্ষতি হয়েছে।

সরাসরি অবকাঠামোগত ক্ষতি (আনুমানিক ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা)। আশির দশক থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত রাজশাহী নগরী ও সংলগ্ন মহাসড়কে যে ৫০-৬০টি যাত্রী ছাউনি পর্যায়ক্রমে সরকারি ও স্থানীয় সরকারের বরাদ্দে তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলোর নির্মাণ ব্যয় ছিল তৎকালীন হিসাব অনুযায়ী গড়ে ৪ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা। বর্তমান বাজারমূল্যে নষ্ট হয়ে যাওয়া অবকাঠামো ও ব্যবহৃত জমির আয়তনের সার্বিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা।

পরোক্ষ আর্থিক ক্ষতি, অবৈধ দখলের কারণে এগুলো থেকে যে সম্ভাব্য রাজস্ব (বিজ্ঞাপন বোর্ড ইজারা বা দোকান ভাড়া) আয় হতে পারতো, তা থেকে সরকার বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছে। আগামীতে নতুন করে পুননির্মাণের আনুমানিক সম্ভাব্য খরচবর্তমান মূল্যস্ফীতি, আধুনিক স্মার্ট ডিজাইন এবং নির্মাণ সামগ্রীর (রড, সিমেন্ট, টাইলস, স্টিল স্ট্রাকচার) দর অনুযায়ী একটি টেকসই যাত্রী ছাউনি তৈরির খরচ ভিন্ন হতে পারে। তবে ধরন ও মডেল আনুমানিক নির্মাণ খরচ (প্রতিটি) রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে ৪০টি করার সম্ভাব্য মোট খরচসাধারণ টিন বা স্টকচারড ছাউনি (মৌলিক বসার স্থান সহ) ৪ থেকে ৭ লাখ টাকা ১.৬ কোটি থেকে ২.৮ কোটি টাকা আধুনিক মানসম্মত ছাউনি (টাইলস, সুপেয় পানি ও ডিজিটাল ডিসপ্লেসহ)৮ থেকে ১৫ লাখ টাকা ৩.২ কোটি থেকে ৬ কোটি টাকাস্মার্ট মডেল শেড (বাস- স্টপেজ, সিসিটিভি, পাবলিক টয়লেট ও সোলার প্যানেল সহ) ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা প্রায় ৮ কোটি থেকে ১২ কোটি টাকা হতে পারে।

রাজশাহী সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরীন ঝিনুক বলেন, যাত্রী ছাউনি সড়কের একটি অংশ। নারী ও পরুষ উভয়ের জন্য একটি জরুরী ক্ষনিকের ব্যবস্থাপনা হরো যাত্রী ছাউনি। সড়ক প্রস্থত করনের ফলে অনেক ছাউনি ভেঙ্গে ফেলতে হয়েছে। তবে রাজশাহী শহরের ভিতরের যাত্রী ছাউনি গুলো রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন তদারকি করেন। সর্ব মহাসড়কে যাত্রী ছাউনি পূনরাই নির্মাণ বিষয়ে তদারকি করা বলে তিনি জানান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সবুর আলী জানান, দূরদূরান্তে চলার পথে যাত্রী ছাউনি কিছু সময়ের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল। গনমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, অনেক যাত্রী ছাউনি দখলদারদের নিয়ন্ত্রনে। খুব দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রী ছাউনি গুলো পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সিরাজগঞ্জে ট্রাক থেকে ৪ কেজি ৩৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার, আটক ২

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন