বিজ্ঞাপন

সাবেক স্ত্রী হাজির, বিয়ে পণ্ড—জামালপুরে ৪ লাখ টাকা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তোলপাড়

জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ে বাড়িতে সাবেক স্ত্রী হাজির হওয়াকে কেন্দ্র করে ভেস্তে গেছে একটি বিয়ে। এ ঘটনাকে ঘিরে কনে ও বরপক্ষের মধ্যে দেখা দিয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। কনের পরিবারের দাবি, আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে নতুন বিয়ে করতে আসায় তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে বরপক্ষের অভিযোগ, বিয়ের আয়োজন ভেস্তে যাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী তাদের আটকে রেখে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করেছেন।

বিজ্ঞাপন

গত ১০ তারিখ রাতে মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের জাফরশাহী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার নান্ডু মিয়ার মেয়ের সঙ্গে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের চতলা পাড়া এলাকার তকদের আলী মেম্বারের ছেলে শাকিল মিয়ার বিয়ের দিন-তারিখ নির্ধারিত ছিল। নির্ধারিত দিনে বরযাত্রী নিয়ে শাকিল কনের বাড়িতে গেলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই বিপত্তি ঘটে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাকিলের আগের স্ত্রী বিয়ে বাড়িতে হাজির হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ে ভেঙে যায়। গরু জবাইসহ ঘটা করে বিয়ের আয়োজন করা হলেও মুহূর্তেই আনন্দের পরিবেশ বিষাদে পরিণত হয়।

কনের বাবা নান্ডু মিয়া বলেন, বরপক্ষ আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। শাকিল আগে বিয়ে করেছিল। সেই তথ্য গোপন করে আবার আমার মেয়েকে বিয়ে করতে আসে। পরে তার আগের স্ত্রী বিয়ে বাড়িতে এসে বিষয়টি জানালে আমরা বিয়ে দিইনি।

নান্ডু মিয়া আরও বলেন, বিয়ের জন্য তিনি বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন এবং বরপক্ষকে ৪ লাখ টাকা নগদ দিয়েছিলেন। পরে বরপক্ষ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন এবং আরও ২০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, তারা আমার সঙ্গে প্রতারণা করে আবার আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তার।

তবে কনের পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরপক্ষ। শাকিলের বড় ভাই শাহআলম মেম্বার বলেন, মেয়ের পক্ষ সবকিছু জেনেশুনেই আমাদের সঙ্গে আত্মীয়তা করতে দিন-তারিখ ঠিক করেছে। আমরা নির্ধারিত সময়ে বরযাত্রী নিয়ে গেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা আমাদের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে।

শাহাআলম মেম্বারের অভিযোগ, একপর্যায়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বরযাত্রীদের সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন এবং তাদের আটকে টাকা দাবি করেন। পরে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সে আরও দাবি করেন, তার ভাইয়ের প্রথম স্ত্রীকে অনেক আগেই তালাক দেওয়া হয়েছে। তাই আগের বিয়ের বিষয়টি গোপন করার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহবুবর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলে আমি ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেখানে যাই। উভয় পক্ষের কথা শুনে পরিস্থিতি শান্ত করা হয় এবং বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বরপক্ষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছে বলে তিনি শুনেছেন। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। মাহবুবর রহমান বলেন, এলাকার পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক রাখতে সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ নিতে গিয়ে যদি তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এলাকার বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুধী সমাজের লোকজন এগিয়ে আসতে নিরুৎসাহিত হবেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাকিল মিয়ার প্রথম বিয়ে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের পেচারচর গ্রামের আনিতা আক্তারের সঙ্গে হয়েছিল। বরপক্ষের দাবি, ওই বিয়ে বিচ্ছেদের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। তবে প্রথম স্ত্রী আনিতা আক্তারের বক্তব্য এ বিষয়ে পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এক পক্ষ ঘটনাটিকে বিয়ের নামে প্রতারণা হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষের দাবি—বিয়ের আয়োজনকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে সালিশে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

দুই পক্ষই নিজেদের অভিযোগের পক্ষে তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে। তবে কার অভিযোগ সত্য এবং ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা কীভাবে লেনদেন হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পড়ুন:উখিয়ায় জেনারেটরের সঙ্গে ওড়না-চুল পেঁচিয়ে নারী প্রকৌশলীর মৃত্যু

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন