বিজ্ঞাপন

জনগণের কাছে জবাবদিহিতা ও দুর্নীতিমুক্ত এলাকা গড়ার অঙ্গীকার এমপি মিলনের

সরকারি সেবা ও উন্নয়ন সুবিধা প্রান্তিক জনগণের কাছে স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। একই সাথে তিনি যেকোনো ধরনের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নিম্নমানের উন্নয়নকাজের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

সোমবার মোহনপুরে বেশকিছু রাস্তার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এমপি শফিকুল হক মিলন বলেন, “নির্বাচনের সময় আমরা আপনাদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে আমানত হিসেবে ভোট চেয়েছিলাম এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে আমাদের কাজের জবাবদিহিতা থাকবে। সেই আমানতের সঠিক ব্যবহার এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা যেন প্রান্তিক মানুষ সরাসরি পায়, তা নিশ্চিত করতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জনগণের মুখোমুখি করা হয়েছে।”

বক্তব্যে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের এলাকায় কোনো ধরনের দুর্নীতির আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এমনকি আমার নিজের ভাই বা কোনো আত্মীয়স্বজনও যদি দুর্নীতির অপচেষ্টা করে, তাদেরও বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। যেকোনো অনিয়মের খবর পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে সকলের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি এমপি বলেন, “যাঁরা ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি সবাই এই রাষ্ট্রের সমান নাগরিক। হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্মের মানুষকে অনুরোধ করব, আপনারা নিজেদের ছোট মনে করবেন না। সরকারি সুবিধা ও রাস্তাঘাট ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া আপনাদের নাগরিক অধিকার, কোনো দয়া নয়।”

উন্নয়নকাজের গুণগত মান বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে ঠিকাদারদের উদ্দেশ্যে সংসদ সদস্য বলেন, “উন্নয়নকাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে শেষ করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। ভালো কাজ করলে ঠিকাদারদের পুরস্কৃত করা হবে, তবে নিম্নমানের কাজ করলে তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হবে যে এখানে আর কাজের সুযোগ নেই। আগামীতে মুখের কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ দেব।”

এলাকার উন্নয়ন কাজকে এগিয়ে নিতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত ‘টিমওয়ার্ক’ করার আহ্বান জানান তিনি। ইতিমধ্যে এলাকার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, খুব শিগগিরই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ এবং টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

উল্লেখ্য রাস্তা উদ্বোধন করা হয় চাঁদপুর চৌরাস্তা জামে মসজিদের পাশ থেকে মাখনপুর গুচ্ছগ্রাম হয়ে মুনসুর মেম্বারের বাসা পর্যন্ত ১ হাজার ১৯৫ মিটার সড়ক, মৌগাছী জিপিএস থেকে কৃষ্ণপুর ইউজেডআর পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মিটার সড়ক, কোটালীপাড়া ইউজেডআর থেকে কোটালীপাড়া বিডব্লিউডিবি পর্যন্ত ৯৯০ মিটার সড়ক, দাঁড়াপাড়া থেকে মুগাইপাড়াহাট পর্যন্ত ১ হাজার ২৭০ মিটার সড়ক, বিষহারা ইউজেডআর থেকে হাটখোলা পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ মিটার সড়ক এবং কৃষ্ণপুর ইউজেডআর থেকে কৃষ্ণপুর পূর্বপাড়া পর্যন্ত ৪৫০ মিটার সড়ক। এসব সড়ক চাঁদপুর, নখড়াজিঘাট, হিন্দুপাড়া, ধোরসা, চক বিরহী, বিষহারা ও কৃষ্ণপুর এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জানা গেছে।

মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহিমা বিনতে আখতার এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা মোহনপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা, উপজেলা সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আর রশিদ, বাবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সরকার অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন, কৃষকদল সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাবলু, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, এলজিইডি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, মোহনপুর উপজেলা প্রকৌশলী রকিব হাসান, উপসহকারী প্রকৌশলী রিপন আলী সরকার ও সাব্বির খন্দকারসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : স্কুল ছাত্রী শ্লীলতাহানীর অভিযোগ তুলে কৃষক পরিবারকে জিম্মি, লক্ষ টাকা জরিমানা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন