যশোর সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামে গভীর রাতে বসতবাড়িতে ঢুকে এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম, মারধর, ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকার-নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত গৃহবধূ মনিরা বেগমের স্বামী সেলিম রেজা বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে যশোরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা করেছেন। আদালত কোতয়ালী থানাকে নিয়মিত মামলা রুজু করার আদেশ দিয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন মাহাবুব আলম শান্ত, শাহাদৎ হোসেন, গোলাম হোসেন, রোমান হোসেন ও রকি হোসেন।
মামলার আরজিতে বাদী অভিযোগ করেন, গত ১৫ আগস্ট রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তার স্ত্রী মনিরা বেগম বাড়ির বাইরে ওয়াশরুম থেকে ফেরার সময় প্রথম আসামি তাকে ডাক দেন। একপর্যায়ে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপাতে শুরু করেন। স্ত্রীকে মারধর ও কুপাতে বাধা দিতে গেলে সেলিম রেজাকেও মারধর করা হয় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে আসামিরা ঘরে প্রবেশ করে একটি পেনড্রাইভ খুঁজতে থাকে। পরে শোকেসের ড্রয়ার থেকে দুইটি সোনার রুলি, একটি সোনার চেইন, এক জোড়া সোনার কানের দুল ও নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহতদের চিৎকার শুনে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে আসামিরা মামলা তুলে না নিলে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায় বলেও মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত মনিরা বেগমকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত মনিরা বেগম আরো অভিযোগ করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগেও গভীর রাতে এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত দুর্বৃত্ত তার হাত-পা বেঁধে ব্যাপক মারধর করেছিল। ওই ঘটনায় আদালতে মামলা করা হয়েছে এছাড়াও আসামীদের বিরুদ্ধে এলাকায় সংঘটিত কয়েকটি অপরাধের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি একটি পেনড্রাইভে সংরক্ষিত ছিল। আসামিরা বিষয়টি জানতে পেরে পেনড্রাইভটি নিতে গত ১৫ আগস্ট রাতে তার বাড়িতে হামলা চালায়।
মনিরা বেগম আরও বলেন, পেনড্রাইভ দিতে অস্বীকার করায় তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। একই সঙ্গে বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। হামলার পর প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি দুই সন্তানকে ও স্বামীকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
মনিরা বেগমের স্বামী সেলিম রেজা জানান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের প্রতি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পড়ুন : মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা: হাইকোর্টের রায় কাল


