বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে ন্যায্য হিস্যার ভিত্তি তৈরিতে জাতীয় ফ্রেমওয়ার্ক

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বাংলাদেশের জন্য একটি প্রমিত ও প্রমাণভিত্তিক জাতীয় কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ঢাকায় মধ্যবর্তী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (CEGIS) কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন ‘Formulation of a National Framework for Loss and Damage of Bangladesh’ প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও উইং চিফ (জাতিসংঘ) এ কে এম সোহেল এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান।

কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন) মির্জা শওকত আলী। পরে CEGIS-এর নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোতালেব হোসেন সরকার বলেন, প্রস্তাবিত ফ্রেমওয়ার্কের মালিকানা বাংলাদেশ সরকারের এবং CEGIS এখানে কারিগরি পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে। বিদ্যমান জ্ঞান, তথ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে ফ্রেমওয়ার্কটি গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রকল্প পরিচালক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাহমুদ হোসেন ‘বাংলাদেশে লস অ্যান্ড ড্যামেজের সার্বিক প্রেক্ষাপট’ বিষয়ে উপস্থাপনা দেন। এতে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, অগ্রগতি ও জাতীয় পর্যায়ে এর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী রওনাকুল ইসলাম জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং দেশীয় সম্পদ থেকে এ ধরনের গবেষণায় অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ কে এম সোহেল আন্তর্জাতিক লস অ্যান্ড ড্যামেজ অর্থায়ন কাঠামোর সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরে জাতীয় সম্পদের তালিকা প্রণয়ন, খাতভিত্তিক মালিকানা নিশ্চিতকরণ ও অর্থায়ন কৌশল তৈরিতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়নে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য উপাত্ত ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ের তথ্যঘাটতি দূর করা, স্থানীয় পর্যায়ের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং লস অ্যান্ড ড্যামেজ ও কার্বন বাজারের মধ্যে সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজের (FRLD) পরিচালন স্তম্ভ ও তহবিল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি মালিকানা ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।

কর্মশালার কারিগরি অধিবেশনে ‘National Framework for Loss and Damage of Bangladesh’ বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপনা দেন CEGIS-এর জলবায়ু ও পানি বিশেষজ্ঞ রিয়াসাত আমিন। পরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্যানেল আলোচনা ও উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, বাংলাদেশে এতদিন জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কোনো প্রমিত জাতীয় পদ্ধতি ছিল না। ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি জীবিকা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বাস্তুচ্যুতির মতো অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির বড় একটি অংশ হিসাবের বাইরে থেকে যেত। প্রস্তাবিত ফ্রেমওয়ার্ক এ ঘাটতি পূরণ করে ক্ষয়ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ, বিজ্ঞানভিত্তিক ও তুলনাযোগ্য জাতীয় চিত্র তৈরিতে সহায়তা করবে।

এ ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে জাতীয় পরিকল্পনা, বাজেট বরাদ্দ ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও প্রমাণভিত্তিক হওয়ার পাশাপাশি FRLD-সহ আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে বাংলাদেশের ন্যায্য অংশ দাবির ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি তৈরি হবে।

পড়ুন : পাকিস্তানের হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ নবজাতকের মৃত্যু

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন