জামালপুরের মাদারগঞ্জে গৃহবধূ সাথী আক্তারকে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখিয়ে মূল আসামিদের বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিতর্কিত চার্জশিট বাতিল করে পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
মাদারগঞ্জ উপজেলার নব্যচর গ্রামের গৃহবধূ সাথী আক্তার। ১৯ বছর বয়সী এই নারীকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
বুধবার দুপুরে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বাবা মো. সাইদুর রহমান ও মা বানেশা বেগম অভিযোগ করেন, সাথীর স্বামী সবা শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৩ আগস্ট সাথীকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ফ্যানের হুকের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়। তাদের অভিযোগ, মরদেহের পা মাটিতে ঠেকানো অবস্থায় ছিল। এছাড়া দুই হাতের কবজি ভাঙাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল।
নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে মামলার গতিপথ পরিবর্তন করেছেন। এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি শাহ জামালসহ মূল আসামিদের বাদ দিয়ে এবং একজন আসামিকে সাক্ষী বানিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আসামিরা জামিনে বের হয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
বিতর্কিত চার্জশিট বাতিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তদন্তে গাফিলতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
তবে এসব অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন মাদারগঞ্জ থানার ওসি স্নেহাশীষ রায়।
পড়ুন: বাজার থেকে বম্বে সুইটসের নিম্নমানের ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ
আর/


