সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর প্রতিটি ধূলিকণা যেন তের বছর আগের সেই চেনা গর্জন ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। দীর্ঘ তেরো বছর পর যখন লাউড স্পিকারে হোসে মৌরিনিওর নাম ঘোষিত হলো, গ্যালারি ফেটে পড়ল বাঁধভাঙা উল্লাসে। মাদ্রিদিস্তাদের মনে তখন একটাই আশা পুরনো সেনাপতি ফিরিয়ে আনবেন সেই সোনালী সাফল্যের দিনগুলো। ডাগআউটে শান্ত, নির্বিকার ভঙ্গিতে বসে থাকা ‘স্পেশাল ওয়ান’ নিজের প্রত্যাবর্তনের উপলক্ষটিকে যে রূপকথার মতো স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলেন, মাঠে তা বাস্তবে রূপ দিলেন কিলিয়ান এমবাপে।
বুধবার রাতের এই লড়াই শুরুতে মোটেই সহজ ছিল না। রিয়াল সোসিয়েদাদ প্রথম থেকেই জমাট রক্ষণে স্বাগতিকদের সামনে কঠিন প্রাচীর তুলে ধরে। মৌরিনিওর দল ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে বিরতির পাঁচ মিনিট আগে জট খুলল। ডি-বক্সের ঠিক ভেতরে নিখুঁত প্রথম স্পর্শে ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে বিদ্যুৎগতির শটে বল জালে জড়ালেন এমবাপে। তবে সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই নাটকের মোড় ঘুরল। চার মিনিটের মাথায় এক ডিফ্লেকশন থেকে সুযোগ পেয়ে লুকা সুচিচ বল জালে পাঠালে সমতায় ফেরে সোসিয়েদাদ।
দ্বিতীয়ার্ধে বার্নাব্যু দেখল এক ভিন্ন রিয়াল মাদ্রিদকে। মাঝমাঠে জুড বেলিংহামের একক আধিপত্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেয় লস ব্লাঙ্কোসদের। বেলিংহাম ও এমবাপের দারুণ এক ওয়ান-টু পাসে ফরাসি তারকা দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলকে দ্বিতীয়বার এগিয়ে নেন। মিনিট কয়েক পর আবারও বেলিংহামের অসাধারণ চাতুর্য; বক্সে বল বাঁচিয়ে রেখে তিনি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দিয়ে করালেন সহজ গোলটি।
ম্যাচের শেষ অঙ্কটি ছিল পুরোপুরি এমবাপের নিজস্ব শিল্পের প্রদর্শনী। ভিনিসিয়ুসের চমৎকার বাড়ানো বলে ছুটে গিয়ে আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চমৎকার চিপে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।
ডাগআউটে মৌরিনিও হয়তো রেফারির সিদ্ধান্তে একবার মেজাজ হারিয়েছিলেন, কিন্তু ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই তাঁর মুখে খেলে গেল স্বস্তির হাসি। এস্পানিওলের পর সোসিয়েদাদ—টানা দুই ম্যাচে দুই জয়ে বার্নাব্যুতে মৌরিনিওর দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনা হলো নিখুঁতভাবে। এমবাপের জাদুকরী তিন গোল আর দলের এই দাপুটে পারফরম্যান্স মাদ্রিদ সমর্থকদের মনে সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করল: ‘স্পেশাল ওয়ান’-এর হাত ধরেই হয়তো ফিরছে ট্রফির জোয়ার।
পড়ুন : নেপালে আকস্মিক বন্যায় ১৬০ মরদেহ উদ্ধার, ৪০৩ জন নিখোঁজ
সা/


