নরসিংদীর মাধবদীতে রিকশাচালক আব্দুল মান্নান হত্যা মামলায় প্রধান সন্দেহভাজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত না করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের পরিবার।
গতকাল বুধবার মাধবদীর কান্দাইল এলাকায় আততায়ীদের হাতে নিহত রিকশাচালক আব্দুল মান্নানের বাড়িতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের চাচা মোঃ জামাল মিয়া তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,গত ২০ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার পর থেকে তার ভাতিজা আব্দুল মান্নান নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু মান্নানকে কোথাও খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মাধবদী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন তারা।
দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর গত ১৩ আগস্ট কান্দাইল এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে মান্নানের অর্ধগলিত ক্ষতবিক্ষত মরদেহের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।পরে নিহতের পরনের কাপড় দেখে মরদেহটি আব্দুল মান্নানের বলে তার পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন।
নিহতের চাচা মো. জামাল মিয়া অভিযোগ করে আরোও বলেন, প্রাথমিক অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হলেও মান্নান নিখোঁজ হওয়ার দিন তার সঙ্গে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির দীর্ঘক্ষণ আড্ডা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মাধবদী থানা পুলিশকে এব্যাপারে অবগত করে মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়।
কিন্তু মাধবদী থানা পুলিশ তাদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। এমনকি তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলবও করা হয়নি। তাছাড়া সন্দেহভাজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মাধবদী থানা পুলিশকে একাধিকবার তাগাদা দিলেও তারা তাদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত না করে উল্টো নিহত মান্নানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে থানা থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
তাই মান্নান হত্যা মামলায় প্রধান সন্দেহভাজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার পূর্বক জিজ্ঞাসাবাদ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মান্নান হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চেয়েছেন নিহত মান্নানের পরিবার ও এলাকাবাসী।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে পরিবারের আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।
পড়ুন:মোবাইল উদ্ধারের নামে চাঁদাবাজি: শ্রীপুরে এএসআই এমদাদুলের ঘুস কাণ্ড
ইমি/


