নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের দামিনা (রামপুর) গ্রামে এক বাক প্রতিবন্ধী (৩০) নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার ২৯ আগস্ট এ ঘটনায় মামলা রুজুর বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।
এরআগে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গোসলখানায় এ অমানবিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় মাতব্বররা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও খবর পেয়ে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং মামলা রুজু করে।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ওই বাক প্রতিবন্ধী নারী তার চাচার বাড়ির পেছনে টিন দিয়ে ঘেরা বাথরুমে গোসল করছিলেন। এ সময় আগে থেকেই ওত পেতে থাকা প্রতিবেশী আলম মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (২০) কৌশলে বাথরুমের ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রায় আধাঘণ্টা পর তোফাজ্জল বাথরুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।
পরে বাথরুমের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ওই নারী হাউমাউ করে কাঁদছেন। লোকজনকে দেখে ভুক্তভোগী হাতের ইশারায় বোঝানোর চেষ্টা করেন, তোফাজ্জল তার সাথে জঘন্য কাজ করেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত তোফাজ্জল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
জানা যায়, এমন স্পর্শকাতর ঘটনার পরও ভুক্তভোগীর পরিবার বা স্থানীয়দের পক্ষ থেকে পুলিশকে কিছুই জানানো হয়নি। উল্টো বৃহস্পতিবার রাতেই স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান।
পরবর্তীতে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে শনিবার (২৯ আগস্ট) কেন্দুয়া থানা পুলিশের নজরে আসে। পুলিশ দ্রুত দামিনা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জানার পর পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ওই রাতেই থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ওসি জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে কেউ পুলিশকে আগে অবগত করেনি। খবর পেয়ে পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই বাক প্রতিবন্ধী নারীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী (ভাবি) বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ওসি আরও জানান, অভিযুক্ত তোফাজ্জল হোসেন বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
পড়ুন:যানজটের শহরে স্বস্তির উদ্যোগ, হকারদের জন্য ইউএনও,র নির্ধারিত ৯৮ স্থান
ইমি/


