বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ, সীতাকুণ্ডে শিক্ষককে নিয়ে তদন্ত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে টেরিয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ ব্যবহার করে প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং পরিচালনা এবং প্রাইভেট পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

বিজ্ঞাপন

বেসরকারি মাধ্যমিক/নিম্ন মাধ্যমিক মনিটরিং ও ইভালুয়েশন উইংয়ের অভিযোগ নং-৬৭/এ-১১-এর পরিপ্রেক্ষিতে টেরিয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ এমদাদের বিরুদ্ধে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দেওয়া ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ ও অবকাঠামো ব্যবহার করে শিক্ষকদের বাণিজ্যিকভাবে প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং পরিচালনার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে প্রাইভেট পড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অন্যায্যভাবে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হচ্ছে। এতে অন্য শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের কোনো শ্রেণীকক্ষ বা অবকাঠামো ব্যবহার করে শিক্ষকরা যাতে ব্যক্তিগত প্রাইভেট টিউশন বা কোচিং পরিচালনা করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে দ্রুত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে জরুরি সভা করে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তের বিষয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হলে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অভিযুক্ত শিক্ষককে ব্যক্তিগত শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এমপিও স্থগিতসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ এমদাদ বলেন, “আমার আচরণে হয়তো কোনো শিক্ষার্থী মনঃক্ষুণ্ন হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হয়েছে। আমার কোনো দোষ প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ যে শাস্তি দেবে, তা আমি মেনে নেব।”

টেরিয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রবিউল বলেন, “মন্ত্রণালয়ের চিঠির আলোকে তদন্ত করে আমরা প্রতিবেদন দিয়েছি। পরবর্তী নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমত আরা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর কাছে চিঠি পাঠানো হলেও তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান।

একজন উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তার এমন অবস্থান নিয়ে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পড়ুন : ‘গুম’ নিয়ে এমন আইন আনতে চাই যাতে প্রতিটি ভুক্তভোগী বিচার পায়

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন