জরুরি অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস কিংবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ির সাইরেন শুনলেই যেখানে জরুরি পরিস্থিতির কথা মনে হওয়ার কথা, সেখানে একই ধরনের বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরের সাধারণ মানুষ। সরকারি আইন উপেক্ষা করে শহরের বিভিন্ন সড়কে একশ্রেণির কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির গাড়িতে অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘ভিআইপি’ সাইরেন, অতিরিক্ত ক্ষমতার ফগ লাইট ও ফ্লাশ লাইট। পাশাপাশি গাড়ির কাঁচ ঘন কালো স্টিকারে ঢেকে চলাচল করছেন তারা। এতে শহরে নিরাপত্তাঝুঁকি ও অপরাধের আশঙ্কা বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, পুরোপুরি কালো কাঁচে আবৃত গাড়ির ভেতরের কোনো কিছু বাইরে থেকে দেখা যায় না। এর ফলে দিনের বেলাতেও কোনো অপরাধী এমন গাড়ির সুযোগ নিতে পারে কিংবা আড়ালে সংঘটিত হতে পারে গুরুতর অপরাধ। কালো কাঁচের আড়ালে কোনো চিহ্নিত অপরাধী প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও সাধারণ মানুষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে জরুরি সেবার সাইরেন ব্যবহার করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের চালকরা উচ্চ ক্ষমতার ফগ লাইটের তীব্র আলোতে দিক হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি সেবার গাড়ি মনে করে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহন রাস্তা ছেড়ে দিলেও পরে দেখা যাচ্ছে, ওই গাড়িতে যাচ্ছেন সাধারণ কোনো কর্মকর্তা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি।
মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্তৃপক্ষ এসব গাড়ি দেখেও নীরব থাকছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আইনের প্রয়োগ কি শুধু সাধারণ চালক ও পেশাজীবীদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ?
শহরের জননিরাপত্তা ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এসব ‘কালো গ্লাস ও অবৈধ সাইরেন সংস্কৃতির’ বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন সৈয়দপুরের সর্বস্তরের মানুষ।
পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ
আর/


