সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ছাইম নামে এক শিশুকে হত্যা মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন ও পৃথক দুটি মাদক মামলায় দুই জন সহ মোট ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে একই আদালত।
হত্যা মামলায় দুই জনের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড ও অনাদায়ে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে একটি মাদক মামলায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৫ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর মামলায় ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩য় আদালতের বিচারক মো: নজরুল ইসলাম এ রায় প্রদান করেন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম সরোয়ার শফিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হত্যা মামলায় দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ভায়ড়া গ্রামের মোক্তার সরকারের ছেলে আল-আমিন ও সলঙ্গা থানার আংগারু গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে নাসির উদ্দীন।
মাদক মামলায় দন্ডপ্রাপ্তরা হলো, সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার হোসেনপুর পুঠিয়াবাড়ি মহল্লার আনোয়ার হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৩) ও দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর থানার বাসুদেবপুর মাষ্টার পাড়া গ্রামের হবিবুর রহমানের স্ত্রী মালা খাতুন (৫৬)।
হত্যা মামলার অভিযোগ পত্র উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১১ সালের ২৫ নভেম্বর দুপুরে বাড়ির পাশে বন্ধুদের সাথে খেলা করছিলো শিশু ছাইম। এর পর থেকে সে নিখোঁজ ছিলো। তার সন্ধানে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক খোজাখুজি করে তাকে পাওয়া যায়নি।
২৭ নভেম্বর সকালে স্থানীয় একটি পুকুরে শিশু ছাইমের হাত-পা বাঁধা মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। এঘটনায় নিহত শিশুর নানা আলীম উদ্দিন বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করা মামলা দায়ের করেন। আজ এ মামলায় দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে আদালত।
মাদক মামলার অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ শহরে মাদক বিরোধী অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে সংবাদ আসে হোসেনপুর তারকাটা মিল এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি মাদক দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করছে। খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সন্দেহ ভাজনা এক যুবক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার শরীর তল্লাশি চালিয়ে ২০ পিচ বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন জব্দ করা হয়। এঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক ইশানুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
২০২২ সালের ২২ জুলাই সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন মহাসড়কে ডিউটি করছিলেন র্যাব সদস্যরা। এসময় র্যাব সদস্যদের কাছে খবর আসে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের মনসুর আলী ষ্টেশন এলাকায় এক নারী হেরোইন ক্রয়-বিক্রয় করছেন। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে মালা খাতুন নামে এক নারীকে আটক করে র্যাব সদস্যরা। পরে তার শরীর তল্লাশি চালিয়ে ১২০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়। এই মামলায় আজ মালা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত।
পড়ুন : কালিয়াকৈরে হাটে মাছ কাটার জমজমাট ব্যবসা, বঁটি চালিয়ে দিনে আয় হাজার টাকা


