রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভা বিবিধ অনিয়মে নিয়ে চলছে গত প্রায় ৩০ বছর। অভিভাবক ছাড়া পৌরসভা প্রশাসক নিয়ন্ত্রনে। কিন্ত প্রশাসকের শাসন যেন প্রশাসক ও প্রশাসনের অটুট বন্ধন, ভুক্তভোগী শুধু পৌরবাসিন্দা। ১৪৬ জন কর্মচারী ও ৯টি কর্মকর্তা শূন্য পদ নিয়ে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে চারঘাট পৌরসভার আনুমানিক বাজেট ছিল ১০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এডিপি ও ইউজিপ এবং বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলের অধীনে ড্রেন নির্মাণ, সড়ক সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত একাধিক স্থানীয় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। চারঘাট পৌরসভা ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য উন্মুক্ত বাজেটের আওতায় ৫৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকার উন্নয়নমুখী বাজেট প্রস্তাব প্রকাশ করে।
নগর পরিকাঠামো উন্নয়ন, এডিবি (অউই) সহায়তা এবং সুশাসন প্রকল্পের অধীনে অবকাঠামোগত মানোন্নয়নের পরিকল্পনা এতে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়। সড়ক কার্পেটিং, রি-সারফেসিং এবং ড্রেনেজ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলো সমাপ্ত হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর স্যানিটেশন (এডিবি ও এলজিইডি সহায়তাপুষ্ট) সংক্রান্ত কাজ এবং অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।
চারঘাট পৌরসভার বার্ষিক বাজেটে ‘স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা-মশক নিধন ও ফগার স্প্রে’ খাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকে। তবে পৌরসভার মূল বাজেট বইয়ের মশক নিধন খাতের পৃথক চুড়ান্ত ব্যয় প্রতিবেদন প্রকাশ্যে পৃথকভাবে উল্লেখ থাকে না।
চারঘাট পৌরসভার মতো ‘ক’ শ্রেণীর বা সমমানের পৌরসভাগুলোতে মশক নিধন, ফগার মেশিনের জ্বালানি, মশার ওষুধ (লার্ভিসাইড ও এডাল্টিসাইড) ক্রয় এবং স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতি অর্থবছরে আনুমানিক ৩ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ বা ব্যয় অনুমোদন রাখা হয়। কিন্ত হিসাবের খতায় থাকলেও বাস্তবে অর্থের ব্যবহার প্রশ্নবৃদ্ধ। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের ১০ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ৫৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকার সার্বিক বাজেটে এটি স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বাজেটের অন্তর্ভুক্ত।
মশার লার্ভা ধ্বংসের ওষুধ এবং ফগার মেশিনের ডিজেল ও স্প্রে কেমিক্যাল ক্রয়। স্প্রে মেশিন ও ফগার মেশিনের মেরামত এবং জ্বালানি খরচ। ডেঙ্গু মৌসুম বা বর্ষার সময়ে ওয়ার্ডভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা ও ওষুধ ছিটানোর দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের খরচ। চারঘাট পৌরসভার বাজেটে কেবল ‘সড়ক নির্মাণ’ খাতের জন্য আলাদা কোনো একক নির্দিষ্ট সমপরিমাণ তহবিল থাকে না। পৌরসভার সড়ক সংক্রান্ত বরাদ্দ মূলত ভৌত পরিকাঠামো ও নগর অবকাঠামো উন্নয়ন বরাদ্দের আওতায় সড়ক নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই ও কার্পেটিং খাতের অংশ হিসেবে অনুমোদিত হয়।
পৌরসভার বার্ষিক অবকাঠামো উন্নয়ন বরাদ্দের প্রায় ৪০% থেকে ৫০% অংশ নতুন সড়ক নির্মাণ, আরসিসি পাকা রাস্তা তৈরি এবং পুরাতন সড়ক পুনঃকার্পেটিং কাজের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। এই টাকা পৌরসভার রাজস্ব তহবিল, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি/অউচ), নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নতি প্রকল্প (টএওওচ) এবং বাংলাদেশ সরকার/এডিবির উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে প্যাকেজভিত্তিক বরাদ্দ করা হয়। সড়ক নির্মাণের নির্দিষ্ট টাকার পরিমাণ প্রতিটি ওয়ার্ডভিত্তিক আলাদা স্কিম এবং ই-জিপি টেন্ডার আহ্বানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
ইউআইপি বা আইইউজিআইপি প্রকল্পের মোট অনুমিত বরাদ্দ ৬০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬,৩৪৫ কোটি টাকা)। দেশের ৮৮টি নির্বাচিত পৌরসভায় অবকাঠামো উন্নয়ন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর শাসন ব্যবস্থার অগ্রগতির জন্য এই বিশাল ফান্ড বরাদ্দ করা হয়েছে। যার মধ্যে রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভা রয়েছে।
অর্থায়নকারী সংস্থা উৎস বরাদ্দের পরিমাণ ইউএসডি সম্ভাব্য টাকা এশীয়া উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি ৩০০ মিলিয়ন ডলার (ঋণ) এবং ২ মিলিযন ডলার (অনুদান) ৩,৩২০ কোটি টাকা। ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা এফডি ২০০ মিলিয়ন ডলার যা দেশের অর্থে হিসাবে ২,১০০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সরকার জিওবি ১০০ মিলিয়ন ডলার যা দেশের অর্থ হিসাবে ১,০৫০ কোটি টাকা। সর্বমোট ৬০২ মিলিযন ডলার যা দেশের টাকা হিসাবে ৬,৩৪৫ কোটি টাকা।
এডিবি (অউই) ও বাংলাদেশ সরকারের এই যৌথ উদ্যোগে পৌরসভাগুলোতে রাস্তাঘাট নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পয়ঃনিষ্কাশন ও আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড তৈরির কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। আইইউজিআইপি (ওটএওচ) প্রকল্পের আওতায় রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভার জন্য পর্যায় ভিত্তিক অবকাঠামো বরাদ্দ ও প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওটএওচ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে সড়ক, ড্রেনেজ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের জন্য পৃথক পৃথক মূল প্যাকেজে বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্যাকেজ-১ সড়ক ও ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা (১০৫৩.৬৬ লাখ টাকা)। প্যাকেজ-২ সড়ক ও ড্রেনেজ অবকাঠামোর পরবর্তী কাজের জন্য প্রায় ৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা (৮৬৭.৬৬ লাখ টাকা)। অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্যানিটেশনের আওতায় ৪,০০০টি ছোট এবং ৪০০টি বড় ডাস্টবিন সরবরাহ সহ আধুনিক ল্যান্ডফিল্ড তৈরির প্রাথমিক সরঞ্জাম বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রকল্পের মেয়াদকাল (২০২৩-২০২৮) অনুযায়ী, পারফরম্যান্স মূল্যায়ন কেপিএল সোর্স এবং পরবর্তী ধাপের উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে চারঘাট পৌরসভা এডিবি ও এলজিইডি-র মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ে সর্বমোট ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা সমপরিমাণ প্রকল্প সাহায্য পাওয়ার লক্ষ্যসীমায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভায় আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় নগর অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সর্বমোট ৪.৬৮৭ কিলোমিটার (৪,৬৮৭ মিটার) সড়ক এবং ২.৪০৯ কিলোমিটার ড্রেন উন্নয়ন ও পুননির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রাথমিক প্যাকেজভুক্ত চলমান উন্নয়ন স্কিমসমূহের অন্তর্ভুক্ত প্রধান প্রধান সড়ক ও ড্রেনসমূহ। প্রধান সড়ক উন্নয়ন কাজ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়ক ও বিসি-আরসিসি ঢালাই সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে।
পৌর পরিষদ-বাজার এলাকা সংযোগ সড়ক। চারঘাট বাজার ও কেন্দ্রীয় মোড় থেকে বিভিন্ন আবাসিক ওয়ার্ডমুখী চলাচলের প্রধান সড়ক পুননির্মাণ ও কার্পেটিং। ওয়ার্ডভিত্তিক অভ্যন্তরীণ সংযোগ রাস্তা। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের সংকীর্ণ কাঁচা ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পিসি জিসি ও আরসিসি রাস্তা পাকা এবং মানোন্নয়ন। পৌরসভার বাইপাস ও সংযোগ রোড সংযোগ।
চারঘাট-বাঘা প্রধান সড়কের সাথে পৌর এলাকাভুক্ত ফিডার বা সংযোগ রোডগুলোর প্রয়োজনীয় কার্পেটিং ও সংস্কার। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ পৌরসভার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রধান প্রধান প্রাকৃতিক নালা ও খালমুখী ড্রেন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পৌর বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকার প্রধান ড্রেন: চারঘাট বাজারের মূল অংশ ও বাণিজ্যিক এলাকার বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য আরসিসি ডাবল-কভার ড্রেন নির্মাণ। পদ্মা নদী-প্রাকৃতিক খাল অভিমুখী ড্রেনেজ লাইন। আবাসিক এলাকার পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে প্রধান মেইন ড্রেনের সংযোগ বাড়িয়ে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন নালার সাথে যুক্ত করার জন্য আরসিসি প্রাইমারি ও সেকন্ডারি ড্রেন তৈরি।
কাজের সামগ্রিক ব্যাপ্তি (সুনির্দিষ্ট পরিমাপ) মোট সড়কের পরিমাণ। ৫টি পৃথক লোকেশনে মোট ৫.৪১৩ কিলোমিটার (৫,৪১৩ মিটার) নতুন ও পুনঃঅফিসিয়াল উন্নয়ন স্কিম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম পর্যায়ের মূল কাজের দৈর্ঘ্য ৪.৬৮৭ কিমি। মোট ড্রেনের পরিমাণ ২টি মুল ড্রেনেজ রুটে মোট ২.৪০৯ কিলোমিটার (২,৪০৯ মিটার) দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট পাকা ড্রেন ও স্ল্যাব কভার তৈরি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (খএঊউ) এবং চারঘাট পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে সুনির্দিষ্ট রাস্তা-ড্রেনের নামসূচির রেজিস্টার সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানের জন্য সংগ্রহ করা সম্ভব।) রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভায় আলোকসজ্জা ও স্ট্রিট লাইট (সড়কবাতি) স্থাপনের খাতটি প্রধানত পৌরসভার নিজস্ব রাজস্ব বাজেট এবং নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ এর যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত হয়।
চারঘাট পৌরসভার বার্ষিক রাজস্ব বাজেট এবং প্রকল্প সহায়তা মিলে আলোকসজ্জা ও বিদ্যুৎ রক্ষণাবেক্ষণ খাতে সাধারণত বছরে ৪০ লাখ থেকে ৬০ লাখ টাকার বাজেট ও উন্নয়ন সংস্থান রাখা হয়। এছাড়া ইউজিপ ও আইইউজিআইপি প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিমাণ সোলার ও এলইডি স্ট্রিট লাইট প্যাকেজ অবকাঠামো অনুদানের অংশ হিসেবে সরাসরি যুক্ত থাকে।
চারঘাট মূল বাজার, কেন্দ্রীয় মোড় এবং প্রধান সড়কগুলোর পাশে এনার্জি সেভিং এলইডি পোল ও বাতি সরবরাহ ও স্থাপন। সোলার স্ট্রিট লাইট পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে এবং নিরবচ্ছিন্ন আলোর ব্যবস্থা করতে গ্রিড-বহির্ভূত পল্লী ও ওয়ার্ড সংযোগ সড়কে সৌরবিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি স্থাপন। লাইট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জিআই পোল, ক্যাবল ড্রাফটিং, ইলেকট্রিক ব্র্যাকেট ও সংকেত নিয়ন্ত্রণ প্যানেল সংস্থাপন। ঐতিহাসিক ও নাগরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ আলো চারঘাট থানাপাড়া, বাজার জামে মসজিদ এলাকা, সরদহ বাজার প্রবেশদ্বার গেট এবং পাবলিক স্পেসসমূহে অলংকরণ বা বিশেষ লাইটিং ব্যবস্থা।
বিদ্যুৎ বিল ও বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ। পুরনো ক্ষতিগ্রস্ত সোলার প্যানেল-ব্যাটারি পরিবর্তন, ফিউজ ও তারের মেরামত এবং পৌর এলাকার সার্বিক সড়কবাতির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ খাতের ব্যয়সংস্থান। চারঘাট পৌরসভায় আলোকসজ্জা ও সড়কবাতি (স্ট্রিট লাইটিং) সংস্থাপন প্রকল্পটি মূল (তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প)-এর অবকাঠামোগত উপ-প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
বরাদ্দ প্রাপ্তির বছর: ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর ইউজিপ-৩ এর ১ম পর্যায় এর অনুমোদনকালে চারঘাট পৌরসভার সার্বিক অবকাঠামো ও স্ট্রিট লাইট সাব-প্রজেক্টের বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়)। প্রকল্পের প্রথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি ২০১৮-২০১৯ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ ছিল।
প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন ও মূল ইউজিপ-৩ প্রকল্পের সার্বিক মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে সকল অবকাঠামোসহ আলোকসজ্জা সংস্থাপনের কাজ ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর ছিল। ইউজিপ-৩ সমাপ্ত হওয়ার পর বর্তমানে চলমান আইইউজিআইপি (২০২৩-২০২৮) প্রকল্পের আওতায় চারঘাট পৌরসভার নতুন সম্প্রসারিত রাস্তা ও মোড়গুলোতে সোলার ও এলইডভিত্তিক অতিরিক্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপনের প্রস্তাবনা পরবর্তী ধাপে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চারঘাট পৌরসভার ৯টি ওর্য়াডের একাধিক বাসীন্দা অভিযোগ করে বলে, স্থানীয় পর্যায়ে চলমান কাজ গুলোর টেন্ডার দেওয়া হয়েছে সুকৌশলে। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনতে পাওয়া যায় কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাজের শুরুটাও দৃশ্যমান হয় কিন্ত কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর স্থবির হয়ে যায়। সড়ক ও ড্রেনের কাজ বিগত সরকারের সময় শুরু হয়েছে কিন্ত এখন পর্যন্ত চলামান রয়েছে। কাজের মান উন্নয়নে নেই কোন অগ্রগতি। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থায় দূর্ভোগ বেশি হচ্ছে। রাতের বেলায় চেনার উপায় নেই এটা প্রথম শ্রেনীর চারঘাট পৌরসভা। সরকারী বরাদ্দের কোন কমতি নেই, কিন্ত বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং সময় ক্ষেপন হচ্ছে।
চারঘাট পৌরসভার যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুস সালেক আদিল বলেন, প্রথম শ্রেনীর পৌরসভায় সরকারী বরাদ্দের কোন কমতি নেই। প্রকৃত অভিভাবক বা নির্বাচিত মেয়র না থাকার কারনে অনেক গুঞ্জন হচ্ছে। এই পৌরসভায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া আছে। এই বরাদ্দ দিয়েই পৌরবাসীর কল্যাণে কাজ করা সম্ভব।
উপজেলা বিএনপি সম্পাদক মুরাদ পাশা গনমাধ্যমকে জানান, এই পৌরসভার নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে না। নিম্ন মানের উপকরন ব্যবহার করে ড্রেন ও সড়কের কাজ হচ্ছে। রাতের বেলায় ঘুটঘুটে অন্ধাকার। প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা শুধু খাতা কলমে, ভাঙ্গা গড়ার খেলা অবিরাম চলছে। স্থানীয় সরকারের তদারকি না থাকার কারনে করাদ্দের অর্থ গুলোর অপচয় হচ্ছে।
বরাদ্দের বিষয়ে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ কথা বলতে সম্মতি প্রকাশ করেনি। শুধু তিনি বলেন, গত ১১ অক্টোবর ২৫ তারিখ তিনি এই পৌরসভায় যোগদান করেছেন। এখনো সকল বিষয় বুঝে উঠতে পারেনি।
চারঘাট পৌরসভা নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সচিব পদটি শূন্য রয়েছে প্রায় এক বছর যাবত। বর্তমান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী প্রকৌশলী মজিবুর রহমান। তার বক্তব্য নিতে গেলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। তার অনুপস্থিতির বিষয়ে পৌরসভার কেউ বলতে পারেনি তিনি কোথায় আছেন। অফিসের তথ্যমতে গত এক সপ্তাহ যাবত তার কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
অনিয়মে বিষয়ে জানতে মোবাইল কলের মাধ্যমে কল করা হয় পৌর প্রশাসক (অঃ দাঃ) উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসকে। কিন্ত তিনি মোবাইল কল রিসিবি করেনি। ডিডিএলজি (অঃ দাঃ) উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার উম্মে কুলসুম সম্পা বলেন, সার্বিক বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন : স্বল্প সময়ের মধ্যেই লোডশেডিং কমবে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
সা/


