সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সালাম চিকিৎসার অভাবে বিছানাবন্দি

0
35
বিজ্ঞাপন

পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে ১৪ মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাজাপুর গ্রামের ২২ বছর বয়সী সালাম হোসেন। কিন্তু ইফতারের মাত্র পাঁচ মিনিট আগে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এখন চিকিৎসার অভাবে বাড়িতে বিছানাবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

চলতি বছরের ৭ মার্চ সৌদি আরবে মোটরসাইকেলে পণ্য ডেলিভারি দিতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন সালাম। পরিবারের ভাষ্য, ওইদিন রোজা অবস্থায় ইফতারের মাত্র পাঁচ মিনিট আগে বৃষ্টিতে ভেজা সড়কে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সাত দিন কোমায় থাকার পর জ্ঞান ফেরে তার।

দীর্ঘ চিকিৎসায় পরিবারের প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য একমাত্র ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে শেষ সম্বল এক বিঘা জমি বিক্রি করে আরও ১১ লাখ টাকা খরচ করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশে আনা হয়। বর্তমানে অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছে না পরিবারটি।

সালামের বাবা জহুরুল ইসলাম জানান, একমাত্র ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। প্রথমে দালালের মাধ্যমে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করেও প্রতারিত হন। পরে আরও পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে সালামকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।

পরিবারের অভিযোগ, দালালের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সৌদি আরবের একটি কোম্পানিতে ফুড ডেলিভারির কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। পরে সালাম ‘অ্যামাজন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ নেন। দুর্ঘটনার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ ও কর্মরত প্রতিষ্ঠান থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের দাবি।

সালামের বাবা বলেন, ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তার সব শেষ হয়ে গেছে। শেষ সম্বল জমিটুকুও বিক্রি করেছেন। এখন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো সামর্থ্য নেই।

মা সালমা খাতুন বলেন, তার ছেলের বয়সী অনেক তরুণ আজ পরিবারের হাল ধরেছে। অথচ তার ছেলে বিছানায় পড়ে কষ্ট করছে। একজন মা হিসেবে সন্তানের এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছেন না তিনি। ছেলের চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সালাম হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন না। চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থ প্রয়োজন, যা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা চান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, সালামের চিকিৎসার জন্য গ্রাম পর্যায়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরও অর্থের প্রয়োজন। এ অবস্থায় মানবিক মানুষদের সালামের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সালামের চিকিৎসায় সহযোগিতা পাঠানো যাবে বিকাশ নম্বর ০১৭১০-৭৪৫৫২৯ অথবা জনতা ব্যাংক, এলপিসি, বামন্দী শাখা, গাংনী, মেহেরপুর—হিসাব নম্বর ০১০০২৩৯০৬৭২৪১-এ।

পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া সালাম এখন চিকিৎসার অভাবে বিছানাবন্দি। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষায় থাকা এই তরুণের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে তার পরিবার।

পড়ুন : নাইজেরিয়ায় চুরি করতে গিয়ে বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রাণ গেল ৪৩ জনের

সা/

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.