বিয়ে গোপন করে সরকারি পেনশনের টাকা উত্তোলন

0
8
বিজ্ঞাপন

স্বামীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের অফিস সহায়ক আফসানা বেগমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য গোপন রেখে তিনি প্রয়াত স্বামী মো. আসাদ মিয়ার মৃত্যুর পর প্রাপ্য পেনশন ও অন্যান্য সরকারি সুবিধার টাকা উত্তোলন করেছেন।

এ ঘটনায় সরকারি অর্থ ফেরত নেওয়া এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মৃত আসাদ মিয়ার স্বজনরা।

অভিযোগকারী মৃত আসাদ মিয়ার ভাই কাজল মিয়া বলেন, তার ভাই সরকারি মহিলা কলেজে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর তার স্ত্রী আফসানা বেগম পেনশনের টাকা উত্তোলন করেন। তবে পরবর্তীতে আফসানা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে জানতে পারেন তারা। অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখেই পেনশনের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

কাজল মিয়ার দাবি, তাদের অসুস্থ মাকেও পেনশনের অর্থ থেকে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের পর বিধবা হিসেবে পেনশন সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য নয়। তাই বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি কোষাগারের টাকা ফেরত আনার দাবি জানান তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আসাদ ও আফসানা দম্পতির সাদিয়া নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

অন্যদিকে, আফসানার দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে পরিচিত সাগর আহমেদ দাবি করেন, আফসানা তার স্ত্রী। তার ভাষ্য, আফসানাই তাকে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিলেন। কারণ বিয়ের কথা প্রকাশ হলে আগের স্বামীর পেনশনের টাকা উত্তোলনে সমস্যা হতে পারে বলে তাকে জানানো হয়েছিল।

তবে আফসানা বেগম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার কারো সঙ্গে বিয়ে হয়নি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।”

অপরদিকে আফসানার ভাই উজ্জল মিয়া দাবি করেন, সাগর আহমেদ তার বোনকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে পারিবারিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের হিসাবসহকারী ইকবাল হোসেন বলেন, মোঃআসাদের স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্য টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে তার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের জানা ছিল না। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিয়ে হলে পেনশন সুবিধার ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম রয়েছে।

এদিকে, সাগর আহমেদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন যুবলীগ নেতার দাবি, তিনি যুবলীগের কোনো পদে নেই। ফলে তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন নেবে না বলেও তারা জানিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন—দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ সত্য হলে পেনশনের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে কি না, এবং উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।

ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

পড়ুন: ১০ দিন পর নেপালে সুড়ঙ্গ থেকে চীনা নাগরিক জীবিত উদ্ধার

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.