ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধীদল। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন চলাকালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের সমালোচনা করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধীদল।
এদিন অধিবেশনের একপর্যায়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬ এর ওপর আলোচনার জন্য আইনমন্ত্রীকে আহ্বান জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে স্পিকারের কাছে কথা বলার অনুমতি চান। পরে স্পিকার অনুমতি দিলে বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের সমালোচনা করে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পিকারের সমালোচনা করে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে কথা বলতে চাইলেও স্পিকার তাকে সেই সুযোগ না দিয়ে উল্টো মশকরা করেছেন। স্পিকারের এমন পক্ষপাতমূলক আচরণকে চরম হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চিফ হুইপ অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের মতামতের কোনো তোয়াক্কা না করে সরকার তড়িঘড়ি করে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল সংসদে উত্থাপন ও পাস করেছে। তিনি দাবি করেন, এই বিলে স্বাধীন কোনো তদন্ত করার ন্যূনতম সুযোগ রাখা হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র নজিবুর রহমান সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর বিলটিকে সুস্পষ্টভাবে কোরআন ও সুন্নাহ বিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, ইসলামের কোনো ধারণা না রেখেই তিনি সংসদে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন।
নজিবুর রহমানের মতে, স্পিকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, কিন্তু তিনি তা পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। সরকার মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ বিলকে শক্তিশালী করার বদলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আরও হালকা করে সংসদে পাস করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এই আইনকে ‘কালো আইন’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এর মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার হরণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে গুম ও খুনের নতুন সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ১৭ বছরের সীমাহীন নির্যাতনের কথা ভুলে গিয়ে সরকার আবারও পুরোনো নিয়মেই দেশ চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই সংসদীয় মুখপাত্র।
পড়ুন : রাষ্ট্র মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা : সংসদে অর্থমন্ত্রী


