বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতুর দাবিতে ২০ জেলা পায়ে হেঁটে ঢাকায় বাবা-ছেলে: ১৯ দিনের পদযাত্রা শেষে স্মারকলিপির প্রস্তুতি

গাইবান্ধার বালাসীঘাট থেকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক ও রেলসেতু নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে রাজধানীতে পৌঁছেছেন এক বাবা ও তার ছেলে। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে গত ১৬ আগস্ট শুরু হওয়া তাদের ব্যতিক্রমী এই ‘লং মার্চ’ ১৯তম দিনে শনিবার রাজধানী ঢাকার জিরো পয়েন্টে এসে পৌঁছায়। দেশের ২০টি জেলা অতিক্রম করে ঢাকায় আসা এই পদযাত্রীদ্বয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করবেন।

বিজ্ঞাপন

​পদযাত্রাকারী বাবা ও ছেলে গাইবান্ধা থেকে যাত্রা শুরু করে বগুড়া, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও মুন্সিগঞ্জ হয়ে ঢাকার সীমানায় প্রবেশ করেন। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে ক্লান্তি উপেক্ষা করে প্রতিদিন গড়ে মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন তারা। বিভিন্ন জেলা সদর ও গ্রামীণ জনপদে সাধারণ পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতুর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন এবং এই দাবির পক্ষে জনমত গঠন করেন।

​বাবা-ছেলের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল ঐতিহ্যবাহী বালাসী-বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ-রুট। যমুনা নদীর নাব্যসংকট এবং বিকল্প সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বন্ধ রয়েছে। ফলে রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, কুড়িগ্রামসহ সংলগ্ন জেলাগুলোর মানুষকে যমুনা সেতু হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে ঢাকায় আসতে হচ্ছে। বালাসী ও বাহাদুরাবাদের মধ্যে সড়ক ও রেল সংযোগসহ একটি সেতু নির্মিত হলে রংপুর বিভাগ থেকে জামালপুর, ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকার দূরত্ব নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।

​লং মার্চে অংশ নেওয়া বাবা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে উত্তর জনপদের মানুষ এই সেতুর দাবি জানিয়ে আসছে। আশ্বাসের পর আশ্বাস এলেও প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের শাকসবজি ও ফসল দ্রুত রাজধানীতে পাঠাতে এবং উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড শক্তিশালী করতে এই সেতু বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ আকর্ষণ এবং বিষয়টিকে গণদাবিতে রূপ দিতেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নেমেছি।”

​পদযাত্রী বাবা-ছেলে আরো জানান, ঢাকায় পৌঁছানোর পর তাদের মূল লক্ষ্য সেতু ভবনে গিয়ে সেতু বিভাগের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা এবং সরকারের শীর্ষ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

পদযাত্রাকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও ব্যাপক সহমর্মিতা তৈরি করেছে।

পড়ুন:বাবা-ছেলের নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ঘুষ-দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন