অবশেষে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন ও বিডিএফসির সহযোগিতায় মানসিক ভারসাম্যহীন মালয়েশিয়া প্রবাসী লক্ষ্মীপুরে রামগঞ্জের মোঃ রানা হুসাইন দেশে ফিরলেন।
জানা গেছে, কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে নিয়োগকর্তা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দেশে পাঠান। কয়েক মাস দেশে চিকিৎসা শেষে পুনরায় মোঃ রানা মালয়েশিয়ায় কোম্পানিতে যোগদান করলেও অসুস্থতা পিছন ছাড়ে না। এক পর্যায়ে মানষিক ভারসাম্যহীন হয়ে কুয়ালামপুরের পথে পথে ঘুরতে থাকেন। এ সময় মেহেদী হাসান নামে এক প্রবাসীর নজরে আসলে তিনি তাকে আশ্রয় দেন। এবং অসুস্থ রানাকে দেশে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ হাই কমিশন কুয়ালালামপুরের দারস্থ হন। রানাকে দেশে পাঠাতে হাইকমিশন থেকে আড়াই হাজার রিঙিত সহযোগিতা করা হয়।
এদিকে, হাইকমিশনের সহযোগিতায় প্রাপ্য টাকা দিয়ে ২৭ আগস্ট স্থানীয় সময় বিকাল ৩.৫০ মিনিটে ইউ এস বাংলায় টিকিট ক্রয় করে তাকে দেশে পাঠানোর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও ইমিগ্রেশন চেকিংয়ে আটকে দেওয়া হয় স্পেশাল পাস জটিলতায়।
মানসিক ভারসাম্য রানা অসুস্থ থাকার কারণে তার বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা হারিয়ে ফেলে। এবং কোম্পানির প্রতিনিধি ভুলের কারণে স্পেশাল পাস না নিয়ে রানে পাঠিয়ে দেয় বিমানবন্দরে। যার ফলে অসুস্থ রানাকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
এদিকে, প্রবাসী মেহেদী হাসান রানার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা কোনভাবেই দেশের ফেরার জন্য রানাকে অর্থনৈতিক সহযোগিতার করতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এমবস্থায় মেহেদী হাসান প্রবাসী সাংবাদিক বাপ্পী কুমার দাসের সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি তাৎক্ষণিক বিডিএফসি ফুটবল ক্লাব ম্যানেজমেন্টের সাথে যোগাযোগ করেন।
বিডিএফসির সভাপতি রাফিজ রহমান রাসেলের নির্দেশে, সহ-সভাপতি সোহাগ আহমেদ তাৎক্ষণিক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রোগী রানাকে দেখতে যায় এবং তাকে দেশে পাঠাতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে বিডিএফসির ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে বিমান টিকিট ও ইমিগ্রেশনের স্পেশাল পাসসহ যাবতীয় খরচ বহন করা হয়।
গত ৭ সেপ্টেম্বর বিডিএফসির সহযোগিতায় দেশে ফেরার পর সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্রাক মাইগ্রেশনের সহযোগিতায় নিরাপদে মোঃ রানা হুসাইনকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পড়ুন:পটিয়া ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে তৌকির-রবিউল
ইমি/


