চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাতরী চৌমুহনী বাজারের হাজী এ. আলী শপিং কমপ্লেক্স দখলের চেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনায় জেলা বিএনপির এক নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চাতরী এলাকার হাজী এ. আলী শপিং কমপ্লেক্সের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী মোহাম্মদ আবদুল হামিদ সুমন ওই মার্কেটের একজন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী।
তাঁর করা মামলায় জাকির আহমদ, মো. রুবেল, মো. দিদার, মো. রফিক আহমদ, মো. ইব্রাহীম, নয়ন, ফরহাদ হোসেন, হেলাল ও মো. জুয়েলকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার ১নাম্বার আসামি জাকির হোসেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলালের অনুসারী।
মামলার এজাহারে বলা হয়, দোকান মালিকদের সঙ্গে ভূমির মালিক ও ডেভেলপারের বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। দোকান মালিকদের করা বাণিজ্যিক মামলায় আদালত ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বিতর্কিত একটি রোয়েদাদের কার্যক্রম স্থগিত করেন, যা এখনো বহাল রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত কিছুদিন ধরে আসামিরা ব্যবসায়ীদের মার্কেট থেকে উচ্ছেদের জন্য হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে ১নং আসামি জাকিরের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মার্কেটের চলাচলের পথে টিনের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেন।
ব্যবসায়ীরা ওই বেড়া সরিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা ধারালো কিরিচ, রামদা, লোহার রড, হকিস্টিক ও কাঠের বাটাম নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, বাদী আবদুল হামিদ সুমনকে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। পরে রামদার আঘাতে তাঁর বাম হাতের তর্জনীতে গুরুতর জখম হয়।
এ ছাড়া আবদুর রহিম, ইকবাল কবির সহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীকে হামলায় গুরুতর আহত হয়। এছাড়া ইজারার দোহাই দিয়ে সওজের জায়গার শতের অধিক স্থায়ী স্হাপনা নির্মান করে প্রত্যেকটা দোকান তিন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠে ১নং আসামী জাকিরের বিরুদ্ধে। সওজের ভূমি উপজেলা প্রশাসন কাঁচা বাজারের ইজারা দিলেও আসামি জাকির স্থায়ী দোকান নির্মাণ করে দোকান প্রতি ৩থেকে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি জাকির বলেন, আমি সেখানে যাইনি। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। মারামারির সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, আমি কিছু জানি না। আপনি তদন্ত করে দেখেন।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে। পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এদিকে চাতুরী চৌমুহনী বাজারটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গাটি কাঁচাবাজার হিসেবে ইজারা দেওয়া হয়। তবে ইজারা দেওয়ার পর বাজারে অবৈধ দোকান নির্মাণ ও কেইপিজেড, সিইউএফএল ও কাফকোর মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শ্রমিকদের যাথায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বিষয়ে তদারকি করে না উপজেলা প্রশাসন। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মহিন উদ্দীনকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, সিইউএফএল জায়গাটি আমাদের নামে গেজেট করে দিয়েছে। সড়কটি অবৈধ দখলমুক্ত করতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পরে সড়কটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। এখন শুধু কাঁচাবাজার নয়, পুরো সড়কই দখল করে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন কীভাবে আমাদের জায়গা ইজারা দিয়েছে, সেটি আমারও প্রশ্ন। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। এখানে স্থায়ী দোকান নির্মাণ করা যাবে না।
পড়ুন:কলমাকান্দা থেকে বাসে যাচ্ছিল মদের চালান, শ্যামগঞ্জে আটক কারবারি
ইমি/


