ইয়েমেনে আবারও বাজছে যুদ্ধের দামামা। কয়েক বছর কিছুটা শান্ত থাকলেও ২০২২ সালের পর সবচেয়ে তীব্র লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছে দেশটি। এর আগে টানা আট বছর চলা যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে সেই যুদ্ধ থামলেও স্থায়ী শান্তি আসেনি। এবার পুরোনো সংঘাত নতুন রূপে ফিরে আসায় শুধু ইয়েমেন নয়, অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পুরো অঞ্চলজুড়ে।
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও প্রতিবেশী সৌদি আরব। তীব্র লড়াই চলছে কয়েকটি প্রদেশে। ২০১৪ সাল থেকে সানা দখলে রাখা হুতিও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, এমনকি হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবেও।
মূল উত্তেজনার শুরু গত জুলাইয়ে। সানা বিমানবন্দরে ইরান থেকে আসা একটি বিমান অবতরণে বাধা দেয় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার। এরপর থেকেই হামলা ও পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠতে শুরু করে।
এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য লোহিত সাগরের বন্দরনগরী আল-মাখা এবং লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালি। বিশেষ করে সৌদির তেল বাণিজ্যের বিকল্প পথ এটি। ইরান এই প্রণালিকে হুতির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইয়েমেন সরকারের লক্ষ্য, যেকোনো মূল্যে এই জলপথের আশপাশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়া।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলেও রয়েছে আরেক শক্তিশালী পক্ষ। সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা এসটিসি দেশটির কিছু অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। চলতি বছরের শুরুতে তাদের কাছ থেকে দক্ষিণ ইয়েমেনের কিছু এলাকা পুনর্দখল করতে সক্ষম হওয়ায় উৎসাহিত সরকার এখন হুতির দিকে দিতে চাইছে পূর্ণ মনোযোগ।
হুতিকে দমন করা সৌদি ও ইয়েমেন সরকারের জন্য সহজ হবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোষ্ঠীটি সহজে ভেঙে পড়ার মতো নয়। তাদের রয়েছে বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ করার মতো বাহিনী, শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদির বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ হামলা চালিয়ে সেই সক্ষমতার জানানও দিয়েছে তারা।
আগের আট বছরের যুদ্ধেও হুতির শক্ত প্রতিরোধ দেখেছে তার প্রতিপক্ষরা। ফলে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় হুতিকে মোকাবিলার নতুন সুযোগ তৈরি হলেও, সংঘাত থামার কোনো স্পষ্ট পথ নেই। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্ণ মাত্রায় চেষ্টা চালাচ্ছে সৌদি আরব। এ ক্ষেত্রে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া মক্কা সামরিক চুক্তি সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও এখন পর্যন্ত এর কোনো দৃশ্যমান প্রভাব দেখা যায়নি।
শুরুতে সিরিয়ার সরকারের মতো হুতিও দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে—এমন ধারণা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বরং বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে ইয়েমেনেরও সুদানের মতো পরিণতি হতে পারে। আর তেমনটি হলে, শুধু ইয়েমেন নয়, পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল এক যুদ্ধ।
পড়ুন:ইরানি হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত
ইমি/


