বিজ্ঞাপন

সব মন্ত্রণালয়ের উত্তর সব মন্ত্রীর কাছে! এ যেন কথার বাজারে সবাই পাইকার!

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রণালয় আছে, মন্ত্রীও আছেন। দপ্তরের দরজায় নামফলকও ঝুলছে ঠিকঠাক। শুধু ইদানীং একটু গোলমাল হয়েছে – মন্ত্রণালয় আলাদা, কিন্তু মাইক্রোফোন যেন সবার! সংসদ থেকে সচিবালয়, ব্রিফিং থেকে সংবাদ সম্মেলন – যে প্রশ্ন যে মন্ত্রণালয়ের, তার উত্তরও যেন পাওয়া যাচ্ছে অন্য মন্ত্রণালয়ের জানালা দিয়ে।

অর্থনীতির প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জ্বালানির সংকটে অর্থমন্ত্রী, আবার রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকেও মিলছে জ্বালানি সংকট কাটানোর সময়সীমা। ফলে সাধারণ মানুষের মাথায় এখন একটাই প্রশ্ন – সরকারের আসল বক্তব্যটা তাহলে কোনটি?

জ্বালানি সংকটের কথাই ধরা যাক। অর্থমন্ত্রী বলছেন – গ্যাস ও বিদ্যুতের পূর্ণাঙ্গ সংকট কাটাতে লাগতে পারে দুই বছর। অন্যদিকে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর কথায় – দ্রুতই বাড়তে পারে গ্যাস সরবরাহ, মিলতে পারে স্বস্তি। আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের বার্তা – সেপ্টেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহেই স্বাভাবিক হতে পারে গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ।

তাহলে জনগণের ক্যালেন্ডারে এখন প্রশ্ন – দুই সপ্তাহ, নাকি দুই বছর? একদিকে স্বস্তি আসছে, অন্যদিকে অপেক্ষা করুন, সময় লাগবে। মাঝখানে সাধারণ মানুষ গ্যাসের চুলায় হাঁড়ি বসিয়ে অপেক্ষা করছে সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুজতে।

একজন দেখছেন অর্থনীতি, একজন নিরাপত্তা, আরেকজন জ্বালানি। কিন্তু মাইক্রোফোন সামনে এলেই মনে হচ্ছে – সবাই যেন সব মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত! এ যেন এমন এক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে মন্ত্রণালয়ের সীমানা আছে, দায়িত্বের সীমানা আছে, কিন্তু বক্তব্যের কোনো সীমানা নেই!

বাণিজ্যের প্রশ্ন করলে উত্তর আসতে পারে অর্থনীতি থেকে, অর্থনীতির প্রশ্নে মিলতে পারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা, আর জ্বালানি নিয়ে জানতে চাইলে সংস্কৃতি মন্ত্রী হয়তো দায়িত্ব নিয়েই কথা বলবেন। এমন যখন অবস্থা তখন সাংবাদিকরাও সাত পাঁচ না ভেবে যাকে পাচ্ছেন তাকেই প্রশ্ন করছেন দেশের তাবৎ বিষয় নিয়ে।

প্রতিটি মন্ত্রণালয় আর মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের দিকে প্রধানমন্ত্রীর তীক্ষ্ম নজর রয়েছে। বিষয়টি চাউর হওয়ার পর মন্ত্রীরাও কোন প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন না- যদি রেটিং পয়েন্ট কাটা যায়! হয়তো সেই চিন্তা থেকে তারাও বলেই যাচ্ছেন! কেউ বলছেন না- এটা আমার মন্ত্রণালয় নয়- সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে প্রশ্ন করুণ।

অবশ্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের কারণে একজন মন্ত্রী অন্য খাত নিয়ে কথা বলতেই পারেন। সরকার পরিচালনায় অনেক সিদ্ধান্তই হয় সমন্বিতভাবে। কিন্তু বিপত্তি বাধে তখনই – যখন একই সংকট নিয়ে আসে একাধিক ব্যাখ্যা, একাধিক প্রতিশ্রুতি আর একাধিক সময়সীমা। তখন প্রশ্ন ওঠে – সরকারের মন্ত্রীসভা কি একতালে চলছে, নাকি বক্তব্যই যাচ্ছে আলাদা আলাদা পথে ধরে?

কারণ সরকারের বক্তব্য শুধু কথা নয় – এটাও এক ধরনের নীতি। একজন বললেন – দুই সপ্তাহ।

আরেকজন বললেন – দুই বছর। দুজনই যদি সরকারের অংশ হন, তাহলে সাধারণ মানুষ কার ঘড়ি ধরে অপেক্ষা করবে?

এর প্রভাব শুধু সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তিতেই থেমে থাকে না। ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা কিংবা বিনিয়োগকারীরাও জানতে চান – আগামীকাল পরিস্থিতি কেমন হবে? কিন্তু যখন সরকারের বিভিন্ন স্তর থেকে আসে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা, তখন অনিশ্চয়তাও যেন পায় সরকারি অনুমোদন!

মন্ত্রণালয় যার যার, দায়িত্বও ভাগ করা। কিন্তু বক্তব্য যদি সবার হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত জবাবদিহিটা কার?

বাস্তবতা অবশ্য বক্তব্যের চেয়ে অনেক কঠিন। মাঠের বাস্তবতা বলছে – সংকট আছে। কিন্তু মাইক্রোফোনের বাস্তবতা বলছে – সমাধানও আছে! শুধু সমস্যা হলো – সমাধানটা আসবে দুই সপ্তাহে, নাকি দুই বছরে – সেটাই এখনও পরিষ্কার নয়।

এ যেন সরকারের বক্তব্যেরও নিজস্ব যানজট! এক মন্ত্রণালয় থেকে বের হচ্ছে এক কথা, আরেক মন্ত্রণালয় থেকে আসছে আরেক কথা। সব কথা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে মিলবে – সেই গন্তব্যটাই যেন অজানা!

পড়ুন : ফোনালাপে স্পষ্ট করলেন হাসিনা, আ.লীগের নেতৃত্বে রেহানা নাকি সেলিম?

ভিডিও দেখুন : https://www.youtube.com/watch?v=e26OLeD1sPA

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন